Friday, December 22, 2017

প্রিয় মহারাণী

প্রিয় মহারাণী,

নিজের ক্ষতি করে কি কোন লাভ আছে বলো? কিছুই তো লাভ নেই। মরে গেলেও পরে আল্লাহ হাতে ধরে জাহান্নাম দিবে। আর আসল কথা হলো হাসনা হেনা নামের আইডীর মালিকটাকে নিজের মতো আদর করে ভালোবাসতে পারবো না। আসলে তুমি আমাকে এতোবার ফিরিয়ে দেওয়ার পরেও কেনো আমি ভালো থাকি জানো? কারণ তুমি আমাকে কখনও বলনি যে আমাকে ভালোবেসো না। সবসময় বলেছো আমি পারবো না। হ্যা তুমি পারো নিজের জন্য পারোনা। আর যদি নিজের ক্ষতি করতাম অনেক আগেই করতাম। এখন আ রকিছু করার বাকি নেই। আর বাকি থাকবেই বা কেনো যাকে এতোগুলা মানুষ ভালোবাসে যার জন্য সবাই ভাবে তার এই ভালোবাসার মানুষগুলা ছাড়া আর কি লাগে। আর মরে গেলে? মরে গেলে যে তোমাকে পাবো না লক্ষিটা আমার! তোমাকে পেতে হলে কি করতে হবে জানিনা। তবে এটুকু জানি আমার তোমাকে নিয়ে ভালো থাকতে হলে তোমাকে ভালোবাসতে হবে আর আমার পক্ষে তোমাকে ছাড়াও থাকা পসিবল না। হ্যা তোমার হয়তো এটা মনে হতে পারে আমার ফ্যামিলি আর তোমার ফ্যামিলির কথা দুট মানায় না। কিন্তু জানো? আমার বিয়েটা পুরোটাই আমার আর আল্লাহ এর হাতে। কোন বাবা মা এর হাতে না। আমি যদি একজন ধর্ষিতাকেও বিয়ে করি আমি জানি আমার বাবা খুশি না হলেও আমার মা খুব খুশি হবেন কারণ আমি আমার দুখিনী মায়ের সন্তান। তুমি দেখতে আহামরি সুন্দরী না। আর সব বড়লোক মেয়েদের মতো এটা সেটা খেয়ে বানানো তুলতুলে শরীরের অধিকারীও না কিন্তু কি জানো তোমাকে কেনো ভালোবাসি এটা আমি এখনও খুঁজে পেলাম না। সেদিন না জিজ্ঞাসা করেছিলে। আজও খুঁজে পেলাম না। যাই হোক আমি এমনই থাকি না। থাকো না আমার মহারাণী হয়ে। কোন একদিন গ্রীষ্মের প্রখর তাপের শুষ্কতা গুলোকে পেছনে ফেলে আমাকে মহারাজা বানিয়ে নিও। রানীই হবে দেখো। ঠিক হয়ে যাবে। পুরোটা রাণী। শেষ ভালোবাসা কেমন হয় জানি না। কিন্তু আমার আর মেয়েদের প্রতি যখন সব ফিলিংস গুলো হারিয়ে যাচ্ছিলো তখন তোমার মতো একজন সাধারণ মেয়ে এসে আমাকে ভালোবাসা শিখিয়েছে , আর শিখিয়েছে জীবনে সুখ নয়, শান্তি নিয়ে বেচে থাকতে। একদিন কান্না পেলে আমার বুকে মুখ লুকিয়ে কান্না করবে। সেই দিনের অপেক্ষায়।

                                                                                                                       
                                                                                                                          ইতি
তোমার এবং তোমারই মহারাজা।

Sunday, December 17, 2017

আমার অবুঝ স্বাধীনতা -আর রাফিউ খান ঈশান



হাতে লাঠি বন্দুক নিয়ে তুমি দেখাও স্বাধীনতা
আর পায়ের তলায় মুড়িয়ে দিয়েছো লাল সবুজ পতাকা।
আর শহর কুড়িয়ে নাওনা তুমি রোজ আগে নিতে যেমন
তাই বাংলার সব স্বপ্নগুলোও রয়ে যায় অপূরণ।
আর রাস্তার ধারে উচ্চকন্ঠে ভিন্নদেশী গান
কেনো সম্মান না করতে পেরে করো মা কে অপমান।
আর তাই দেখে আরো কুলাঙ্গার গুলো হাতে হাতে একসাথে
দুমড়ে মুচড়ে খেয়ে ফেলে দেশ আধো জ্যোৎস্নার রাতে।
আর কিছু মানুষে জানেও না এ দেশের স্বাধীনতা খানি কি!
তারা নেশার প্যাকেট আনে দেহে আর থাকে কি কিছু বাকি?
আর তরুণ সমাজের কিছু কিছু যুবক যুবতি এসে
সেই নেশার ছলে একসাথে লেগে থাকে বসে।

ওহে ৪৬ বছরের মধ্যবয়সী তোমার জন্মের সময়,
তোমার মা পথে ঘুরেছে করে নিজের বক্ষ ক্ষয়।
তোমার বাবা শহীদ মোস্তফা নামও কি মনে নাই তোমার?
কিরকম ছেলে তুমি ঘৃণাও যে করে না আর।
সেদিনও তোমার মা বেচে গিয়েছিলো বর্বর রাতে সেই সর্বস্বে,
নাহলে আজ তুমি হতে ছোট আর লোকে বলতো জারজ হে।
আরে ভেবে দেখো তুমি বেচে গেছো কারণ ছিলো লাখো শহীদের প্রাণ
আর মাঝখানেতে বেজে ওঠা কিছু তরুণ প্রজন্মের গান।
আর সাথে থাকা কিছু নষ্ট মেয়ের বা মহিলার সম্মান,
অথবা কিছু বড় বা ছোট ভাইদের হারানো জান প্রাণ।

বুঝবে না নাকি এখনও রবে চুপটি করে বসে,
আজ ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ তা কি স্বরণে আছে?
আজ ভাই আজ হাত মিলিয়ে দেশের কাজ করি
নিজের মায়ের কথা ভেবে এগিয়ে গিয়ে মরি।
আর দেশই তো মা আমাদের একটু সাজিয়ে রাখি
কারণ আর পাবিনা সুযোগ যদি উড়ে যায় তোর পাখি।
পরে খোদার কাছে কি দিবি জবাব যতই করিস ডাকাডাকি
চল সব ভুলে গিয়ে নিজের দেশের স্বাধীনতা বুকে আঁকি।

Saturday, December 9, 2017

আমার থমকে যাওয়া তুমি-আর রাফিউ খান ঈশান


আস্তে আস্তে তুমিতে আসা আপনি ভুলে যাওয়া,
আস্তে আস্তে পাশে বেকে বাহুডোরে পাওয়া।
শীতের রাতে তুমি আমি এক চাদরের তলে
উষ্ণতায় যে কতোশতো ভালোবাসা ফলে।
রাত বিরাতে দুজনের ঐ কুড়িয়ে নেওয়া তারার
রাতের বিছানায় হাতে হাত রেখে অনুভব ভালোবাসার।
ফোনের ওপারে বলে দেওয়া ভালো থেকো আর রেখো
বুকে মাথা। শান্তিতে ঘুমুবে আজ এটা মিলিয়ে দেখো।
একটু তুমি বুকের ভেতরে আঘাত করো ঠোটের,
আর আমিও পাগল হাসির অশ্রু ঝরাই আমার মনের।


এগুলো আজ হারানো সব দিন, মৌমাছি আর নেই ফুলে
মৌমাছিও আজ বেচে থেকে অভিমানে চলে গেছে দূরে।

আজ বুঝিনা তবে কি কারণে ঠোটে তামাক পাতা পোড়ে,
যে ঠোটে তে তোমার ঠোটের পরশ দিয়েছিলে দূরে সরে।
আমরা আসলে একাই থাকি আমাদের আমরা আসল না
আমরাই আবার দূরে সরে থেকে আমাদেরই বলি মিশিনা।
আবারো মিশে যাই নিজের জীবনে সয়েই তো নিতে হবে
ভেবেছিলাম হয়তোবা কাউকে নতুন জীবন দিতে হবে।

ভুল ভাবাটাও শিখিয়েছিলে তুমি সেটা অবশ্য মনে আছে
আমি ভালোবেসে তোমারে হারিয়েছি পাছে পাছে।

আর তুমি বোঝোও নি বাসো ভালো আমায় দূর বা কাছে থেকে
নিজেকে কখনও করোনি প্রশ্ন কেনো ভয় লাগে চোখ রাখতে চোখে।
কিই বা চেয়েছিলাম তোমার কাছে কিই বা করেছিলাম দাবী?
শুধু বলেছিলাম তোমারে একবার শুধু জড়িয়ে ধরে কাঁদি।
তাও দাও নি দিবে কিনা তা বলেও ছিলেনা সত্য
নিজেকেও আজ মনের ভুলে বলে ফেলি অসত্য।

আজ সিগারেট এর ছাইটাই সঙ্গী হয়ে পড়ে রয় শীতের রাতে
আর পিছন থেকে নিজেই বলে ঈশান শোন ভুললেও মনে রাখিস আমাকে।

Sunday, November 26, 2017

বাবা-রাফসান ঈশান

নিজেকে একজন অসহায় বাবা মনে করে এই লেখাটা লেখলাম। কোথাও ভুল হলে ক্ষমা করবেন।



কাঁদিবে কি আর তুমি যবে সারা পাইবেনা মোর গলার স্বরে।
করিবে কি যবে আর শুনিবো না কোন কথা।
চাইবে কি যবে মুছিয়া দিবো না তোমারই আক্ষিজল।
হাসিবে কি যবে শীতল পাটিতে মুড়ি দিয়া চলিয়া যাইবো অজানায়।

সেদিনও কি তুমি কাঁদিবে আমার লাগিয়া ওহে বিসাদের খোকা,
সেদিনও কি ভালোবাসিয়া জড়াইয়া ধরিবে নিজের কল্পনায়,
সেদিনও কি হাতাইবে আমার মানিব্যাগ তোমার জন্য রাখা ৫ টাকার জন্য,
নাকি সেদিন আবার তুমিই বা মরিয়া যাইবে?

আমি থাকিতে তো বুঝোনি আমি বাবা তোমার
তোমারি তো আর শুধু তোমারি আর তুমি আমার ছোট বাবুটা,
আমারে কি বাবা বলিয়া মনেই করো নি কখনও,
নাকি পশ্চাতে কাদিয়া সম্মুখে ধরিতে ভাবখানা।
 যদি ভালোই না বাসিতে তাহইলে কেনো আমারে উপহার দিতে
যদি নাইবা কাছে চাইতে তবে কেনোই বা আসিয়া জড়াইয়া ধরিতে।
যদি চাইতেই আমাকে ভুল বুঝিতে তাহইলে কেনোই বা পরামর্শ চাইতে,
আর যদি ভালোই না বাসিতে কেনোই বা বাবা বলিয়া ডাকিতে বলো?
 আচ্ছা এবারে বলো তো,
যদি ভালই বাসিয়াছো তাহইলে কেনোই বা আমি আজ বৃদ্ধাশ্রমে,
কেনোই বা চারি দেয়ালের মাঝে পড়িয়া কান্না করি অবিরত
কেনোই বা লাথি দিয়েছিলে নিজের বাড়ি থেকে,
আর কেনো তারপরেও ডাকিছো বাবা বলিয়া।
 আর একটুকুই সময় আছে রে মানিক আমার,
একবার ভালোবাসিয়া বাবা বলিয়া খোকন কি তুই ডাকবি?
তা না হইলে মরিয়াও পাইবো নারে সুখ
বাবার ভালোবাসার আদর না পাইয়া যে ভুগবি।

Monday, November 20, 2017

একটি ধর্ষণের চিন্তা

মাঝে মাঝে এমন সব আজগুবি কিন্তু সত্য কথা মনে হয় যা শুনলে হাসি আসবে যেকোন সুস্থ মানুষের কিন্তু ওই মানুষটি যদি একবার ভাবে কথাগুলো নিয়ে তাহলে বুজবে যে কথাগুলো কতটা   গুরুতর। আজ লিখছি এমনই একটা কথা নিয়ে। কিছু খারাপ শব্দ যা ব্যবহার না করলেই নয় এবং বানান ভুল হলে তার জন্য দু:খিত।
..
#আজ মনে হচ্ছে সেইসব নরপিশাচ দের কথা যারা ধর্ষণ করে।।
.
শনিবারে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা। দুধ খেয়ে এসে একটান হলাম বিছানার ওপর।রাত ১১:৪০ বাজে। বইয়ের পাতা একটানে উল্টাতেই বের হয়ে এলো ১০০ পৃষ্ঠা। ওই অংশটির নাম “মানুষের হৃদপিন্ডের গঠন”।আরেকটু পরেই বের হয়ে এলো কার্ডিয়াক চক্র এবং মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন পদ্ধতি। চিত্র আকারে সবই দেয়া। হঠাৎ চোখ বুজলাম। সামনে দেখতে পেলাম একটি নগ্ন সুন্দরী বালিকা।তারপর চোখ বুঝলাম। আবার চিত্র দেখলাম। আবারো চোখ বুজলাম। মনে পরলো আজকে রাতের কথা; আজ তো নববর্ষ এর প্রথম রাত। তখন দেখালাম 3D এর মতো ওই মেয়ের স্তনের ভিতরের ত্রিমাত্রিক জগৎ বা তার দেহের ভিতরে দেখতে পাচ্ছি।

সামনেই তার একজন লম্পট লোক দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ ভরা ধর্ষণের কামনা।কিন্তু সে যদি জানতো তার মর্দনকরা স্তন দুটির ভেতরে রয়েছে হাজারো কোটি স্নায়ু! এখানে রয়েছে রক্ত, রক্তকণিকা, আর রয়েছে হাজারো নিউক্লিয়াস। বুকের ভেতরে রয়েছে ৩৩ টি অস্থি দ্বারা গঠিত একটি মেরুদণ্ড! তার ভেতরে রয়েছে ৩০০ গ্রাম ওজনের একটি হৃদপিন্ড যা একটি সুস্থ মানুষের জীবদ্দশায় ২৬০০ মিলিয়ন বার স্পন্দিত হয়ে ভেন্ট্রিকল থেকে ১৫৫ মিলিয়ন লিটার রক্ত বের করে দেয়!
ধর্ষণের সময় যখন ওই স্তন দুটোয় চাপ পরে তখন হৃদপিন্ডটি যেনো চিৎকার করে বলে ছেড়ে দাও ওই দুটোকে। আমার যে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে! তারপরেও ছাড়ে না ওই কাপুরুষটি। তখন ওই অবিরাম কষ্টের মাঝেই নিজের কাজ চালিয়ে যায় ও আর বাচিয়ে রাখে ওই মেয়েটির জীবন।

একটু নিচেই পেট। যেই পেটে ওই কাপুরুষটি ছিলো দীর্ঘ ৯/১০ টি মাস। যে পেটটি খাদ্যের পচন দ্রব্য গুলো যাতে শরীরের ক্ষতি না করতে পারে তা কতো কষ্টে বের করে দিচ্ছে মল হিসেবে। কতো কষ্ট সহ্য করে ওই অপদার্থ ধর্ষকটিকে তার নিজের মধ্যে সযত্নে আগলে রেখেছিলো!
তারপর পেটের নিচে ধর্ষকটির বহু আকাংখিতো জায়গায়। সে কি বুঝবে ওই জায়গার ব্যাপারে? আজকাল তো অধিকাংশ সন্তান জন্ম নেয় পেট কেটে। কষ্ট তো পেটে তাইনা? 😣 ধরলাম কষ্টই নেই। কিন্তু আগের দিনে  যখন ওইটুকু ছিদ্র দিয়ে ১২ ইঞ্চি ব্যস বিশিষ্ট মাথাসহ একটি ফুটফুটে সন্তান জন্মে পৃথীবির আলো দেখতে পেতো তখন ওই কষ্টটুকু ওই ছিদ্রেই হতো। ওই ধর্ষক এর বাবা মা যদি জানতো যে তারা একটা কুকুরের বাচ্চা জন্ম দিবে তাহলে হয়তো ওই সময়ের সদ্যবহারি করতো।একটাবার কি ভাবে ওই কাপুরুষটা যে তার নিজের জন্মস্থল ওই জায়গাটকুই??!! কতো কষ্টে একটা ডিম্বাণু তাকে জন্ম দিয়েছিলো?

বুঝলোনা ধর্ষকটি!  ধর্ষণ শেষে নিথর হয়ে পড়ে রইলো ওই মেয়েটির দেহখানা যে কিনা কখনো ভাবেও নি বিয়ের আগে কেউ তার শরীরে স্পর্শ করবে।বারিধারা “জে” ব্লক এর পাশের কবরস্থান থেকে হয়তো ভেসে আসছে তনুর মতো নাম না জানা হাজারো ধর্ষিতার কানফাটা চিৎকার।

ইস্ সৌদিআরব এর মতো যদি এই দেশেও ধর্ষকের শাস্তি জনসম্মুখে ফাঁশি দেওয়া হতো আমার আপনার বোনটিকে ধর্ষিত হতে হতো না।

Saturday, November 18, 2017

চরিত্রহীনা বালিকা- ইসমাইল রাসেল ভাইয়ের লেখা


অদক্ষ আঁচে কড়াইয়ের তলানিতে পোড়াশব্দে ঝোলের কড়াপাক। অগোছালো নিরস অবস্থায় চারপাশ। ইহা রাঁধুনি অভাবহেতু পরিবেশে একটি রান্নাঘর ।
গল্পলেখায় দৃশ্যপট বুঝাইতে কঠিনদশার প্রভাব না থাকলে লেখক, খুব কাছ থেকে এক কপাট খোলা জানালার গ্রিল আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশমুখী বালিকা,চাপা ঠোটে,অপারগ চোখে চাহুনি বিলাপে, ঠিক এমনই শুরুদায়িত্ব নিতেন। সদ্য রন্ধনগৃহ বুঝে নেয়া বালিকাটির এরূপ দৃশ্য বেশ আশ্চর্যের।
চঞ্চলমতি যে মেয়েটি ফোনের বার্তাবহ টুকো সংকেতেই আহত নিহত হয়েছে মত ব্যাকুলিত হত,শব্দিত হবার প্রতি মুহূর্তেই ফোন ধরার বাজিতে খুন হত। নজর পেতে কড়াশব্দে পোড়াতে ব্যাস্ত,অগ্নিদাহ চুলো। ব্যর্থ শব্দ, শ্রবন প্রতিক্রিয়া বালিকা মস্তিস্কে তবুও শান্ত।
সুক্ষ্ম মৃদু বাতাসেও কোটি আপন রসে লোমহর্ষিত হইত সে, হিমেল হাওয়ানন্দে হাসিতে হাসিতে কুচিকুচি হত কারন অযথা এই সুখপূর্ণ স্পর্শীতা । এখন বাতাসের তীব্রতর বেগ ও অনুগত স্পর্শহীনতার কাছে, বাতাসে এখন আর ছন্দ নাই, হীমেল হাওয়া ক্ষমতাচ্যুত মনছোয়ায়,অসীম আনন্দ যোগীও আজ ব্যর্থ মন কে হেলাইতে।
আপন ঠোঁটের কর্ন বাকা হাসি হাসি ভঙ্গিমায় বসে, ভালোবাসায় সিক্ত অসম্ভব পাগল মন কলমে চেপে লেখে দিতো ডায়েরীতে যতনে যত কথা, চাঁদকে শুনাবে বলে। চন্দ্রমুখীর উচ্চাকাঙ্ক্ষীয় ডায়েরী বিলাপ চাঁদবদন আর শোনেনা। ঘোরতর চন্দ্র নেশাগ্রস্থ মেয়েটি এখন চন্দ্রালোতেই হয় আহত।
গুনগুন গান আর গানের তালেনামা অঙ্গদুলানো ছন্দ বালিকা দেহে ভর করে থাকতো সারাটাদিন। শান্তিদূত গান, কষ্টভাগে গান, মহাসিন্ধুটা ও যেনো পদতলে নুইয়ে দিতো গান। সেই একি গানের কলিগুলো হৃদয় নিংড়ে ভালোবাসাকে অলৌকিক ভালোলাগতে আর দেয়না। শিউরে ওঠা অদ্ভুত রোমাঞ্চিত মুহূর্ত গুলোই এখন দৈত্যাকার হৃদয়খেকো।
আকাশের নীলাভ সৌন্দর্য কি এখন নীলিমার ভোগে নিশ্চিহ্ন? আকাশপটে মনভাসিয়ে ভালোবাসার উত্তরে এখন বুকেপিঠে মেঘজমাট ব্যথা অনুভূত হয় কেনো? বৃষ্টিজল কি নতুন করে ফুটন্ত অগ্নিলাভারর ধর্মে পরবর্তিত? বৃষ্টিপাতের একবিন্দু জলের কনাতেও এখন হৃদয় ছিদ্রে জ্বলন হবে কেনো? ফুলগুচ্ছ বর্নবিয়োগে ফ্যাকাসে, প্রজাপতিরা মন মরা, গাছিরাজ্য নিরাশ কেন?
কারন বালিকা চরিত্র হারিয়েছে।
বালিকাতে হারানো রাজ্যের মহারানী জয়ী হয়েছে। তার সব সুখ, রানীতে সপে দিয়েছে। অবশিষ্ট খণ্ডিত হৃদয় খানাই বর্ণান্ধতার বেরসিক কারন।
এমন চরিত্রহীনা তে কে করিবে ভরসা, অন্যতে সবটা সপে দেয়ার ক্ষত সারাতে মৃত্যুই বালিকার একান্ত আশা। ভালোবাসার অভিনয়মঞ্চ ভীষণভাবে রঞ্জিত ছিলো, বুঝতেই পারেনি সরল নজর, রঞ্জিতকরণ উপায়ে হরন হয়েছে সে। দেহ মন দুটোই একিঘরে লুটপাট হয়েছে, চরিত্রহীন দেয়ালের ওপাশে সফল অভিনয়বিদ্যা। প্রমান পত্রের উপাদান, মিথ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর হৃদয় দানে খাটি মন, বালিকা সমীকরণ এ চরিত্রহীনা প্রমানিত।
চরিত্রহীনা বালিকা, সে তো রাত জাগে। অন্ধ ভালোবেসে উপহার হিসেবে অন্ধকার অর্জন করেছে। রাতের অন্ধকারাবৃতা তার মিতা এতেই যে তার ভালোলাগে। সম্ভব না কারো এই অন্ধত্ব বোঝা। মন দেয়াতে নাকচ অভিযোগে সবার ভাবনা ভালোবাসায় অনিচ্ছুক বালিকা , দেহলী ভোগেচ্ছা পোষনে বলে, সে তো চরিত্রহীনা বালিকা। হায়রে ভালোবাসা! বেসেছিলাম ভালো হলাম সর্বহারা, এখন আমি ভোগের পাত্র যদি না হই কারো।
বালিকার চরিত্রনাশকারী অভিনেতা এখন উত্তম চরিত্রে ভালোবাসা বাসি খেলায় মগ্ন। বালিকার প্রেমে পড়ে, নতুন করে শত প্রেমিকের আগমন। মন তো নাই দেবে কাকে, সব ই সেই পুরনো অভিনয় লাগে দিয়েছিল মন যাকে ।
সত্যমনে ভালোবেসে মিথ্যে ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে ভালোবাসার নামে ভালোবাসার ই দায়ে দেহ মন কে ভালোবাসার পাত্রে বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসার হাতেই খোদিত হয়েছে ভালোবাসাহীন চরিত্রহিনা বালিকা নামে!

Friday, November 17, 2017

আবেগে লেইখা ফালাইছি

আমি তোমারো লাগিয়া ভেবেছিনু কিনিবো মোর আত্মার ক্রোধ। ভেবেছিনু ইহা নাহি যাইতে দেয় তোমারো নিকটে আর সেই বোধে ইহাকে কিনে ছুড়িয়া ফেলিবো আগুনেরও গভীরে। তারিপরে সখী তোমারে লইয়া হারাইয়া যাইবো সকল ব্যাস্ততারি জীবন ফেলিয়া। এতো প্রেম পাইবো কোথাতে বলো, কোথাতে খুজিবো তোমারো বাহু, কোথাতে রাখিবো মাথাখানি যদি নাহি বা থাকে তোমারো উপ্তপ্ত হৃদয়খানি? পাইবে না গো পাইবে না। পাইবে না এই সাধুলিপির উত্তর গুলো। আর কি হারাইবে না মোর লগে? যাইবে কি না মোর সহিত কাশফুলে শরীর মাখাইতে? নাকি আজি হইয়াছি পুরাতন বস্তু যাহা ভাবিয়া ফেলিয়া দিয়াছো আমারে?

আইসো মোর বাসায়। পাটিতে বসিয়া আবারো তোমারে লইয়া রবী ঠাকুর এর গান শুনিতে শুনিতে বাদাম চিবাইবো। আবারও অশ্রু ঢালিবো তোমার স্তন্যললাটে, আবারো শান্তিতে মরিয়া যাইবো তোমার ভালোবাসার লাগি।

Thursday, November 16, 2017

আমার একটি না ভোলা ট্রেন জার্নি :3

 ঢাকা যাচ্ছি আর ট্রেনে পাশেই বসছে এক আজাইরা পাব্লিক।😠 মুখ দিয়া খালি আজাইরা কথা বাইরইর হয়। তারপর এক হিজরার দল উঠলো।😃

লোক:এদের নিয়ে যে কি করি,সারাদিন বিরক্ত করে মানুষদের।
আমি:আপনি ওদের মতো হলে আপনি ও ওদের মতো করতেন।😒
-না আসলেই দেখেন সরকার থেকে তো ওদের টাকা দেয় তারপরেও ট্রেনে এইরকম করে।😁
-সরকার একজন সৎ পুলিশ এবং একজন অসৎ পুলিশকেও মাসে ১৫-২০ হাজার করে বেতন দেয়। যারা গ্রামে বাস করে তারা মোটামুটি বেচে থাকে। যারা শহরে বাস করে তাদের ২ নম্বরি করাই লাগে। বেচে থাকার জন্য।😂
-না আপনি ভাবেন একবার।কত টাকা ওঠে ওদের ১ মাসে এক এক জনের।
-আব্বুর পকেট মারলে আমার মাসে ওদের পুরো গ্রুপের থেকেও বেশি টাকা উঠতো।😂
-তা ওদের কতো টাকা ওঠে?
-আপনি ই জিজ্ঞাসা করে দেখুন।😠

অত:পর লোকটি আর কথা বলেনি। 

২/৩ মিনিট পরে হিজরা লোকটি এসে বললো:
-ঈশান ভাই ভালো আছেন? 
-হ্যা আপনি ভালো তো? আপনার মা কেমন আছেন? 
-ভাই আপনে সেদিন রক্ত না দিলে আমার মা মারাই যেতেন। 
-মরা বাচা আল্লাহর হাতে। এই নেন ৫০ টাকাই রাখেন। 
-আপনাকে আল্লাহ অনেকদিন বাচিয়ে রাখুক। 
-ইনশা আল্লাহ।
-ভালো থাকবেন।
-জি। আপ্নিও।আর আপনার মাকেও ভালো রাখবেন।
-আচ্ছা। 😃

অত:পর ঐ আজাইরা লোকটির সাথে কথা বলার সময় যারা আমার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো তাদের চোখে আমার জন্য মায়া এবং পাশের লোকটির জন্য সমবেদনা দেখলাম। 😒🐸😂

(বি.দ্র: হিজরা লোকটির মা ২ বছর আগে আ্যক্সিডেন্টের পরে রাতে ৭০০ মিলি রক্ত একাই দিয়েছিলাম। 😎 তার ফলে আজকে কিছুটা সম্মান পেলাম।)
-
(বি.দ্র.২: সবাইকে সম্মান করলে আপনিও সম্মান পাবেন।আমার আজকের বাস্তব অভিজ্ঞতা।  আর কিছু মানুষকে বাশ দেয়া ফরজ কাজ   )

Tuesday, November 14, 2017

ধরবো ধরবো করেও তোমায় ধরতে পারি না।

ধরবো ধরবো করেও তোমায় ধরতে পারি না।

স্মৃতির স্মারকে লেখা আমার ভালোবাসা খুটিয়ে দেখার প্রয়োজনটাও বোধ করলে না। বোধ করলে আমার লুকিয়ে দেখা তোমার মায়াখানি। বোধ করলে না ফুস এর জি২জির আড়ালে থেকে তোমায় লুকিয়ে দেখা। বোধ করলেও না অপরের ছোয়ায় তুমি যখন পরতে পরতে বেচে গেলে একরাশ ব্যাথা বুকে নিয়ে ঠোটের কোনে মিথ্যে হাসিতে হাসিয়েছিলাম সবাইকে। বোধ করলে না তুমি আমার ভেতরের বাতাস যখন আমাকেই সরি বলে মুখ ফিরালে অন্যদিকে।

তোমার জন্য জমা করে কিছু রাখিনি। আমার ভালোবাসা অনেক বেশি হে প্রিয়সী। উহা বোঝোনি কি শুধু আজ বয়সের ব্যবধানের জন্য নাকি আবার ভাবছো ফাঁদ হয়ে এসেছি তোমার আলিঙ্গনে? আবারো  কি বিশ্বাস করবে আরেকটা রুক্ষ ব্যথা নিয়ে বেচে থাকা মানুষকে যে কেঁদে যায় হাসির মাঝে, বৃষ্টির মাঝে? কি ভাবছো? হ্যাঁ তুমি যা ভাবছো সেটাই কারণ আমিও তাই ভাবি।

কথাগুলো বের হয়ে আসে ভেতর থেকেই বুকে মাথা রেখে দেখো আজীবন শুনিয়ে যাবো ভালোবাসার শ্রুতি। শুধু দাও না একবার চিৎকার করে কান্না করতে তোমাকে নিয়ে বাহুডোরে জড়িয়ে বলবো “হে প্রিয় আরাধি, ভালোবাসি তোমাকে”। তোমার একটু ছলনার জন্য ভেবে কি নিবো ভেবেছো তোমার থাকবে আমার উপরে রাগে জমা কতো অভিমান? তা নহে রে মানসিকিনি।


সব ভুলে মাথা রাখলেই যে ভুলে যাবো তোমার সাথে এইতো কিছু সময় বিলম্বেই ঝগড়ায় মত্ত ছিলাম। আমার কোঠরে ঝুলে আছে ভালোবাসাটুকু। নিজের করে রেখো। আমি তো ধরবো ধরবো করেও ধরতে পারছি না তোমাকে। তুমিই না হয় ছিনিয়ে নিও আমায়।

Sunday, November 5, 2017

নিকৃষ্ট ৩ -আর রাফিউ খান ঈশান

অগোচর থেকে একটু বেশি
তোমাকে কাছে চেয়েছিলাম শুধু
আজ এতোকালে বুঝেছি আমি
ভুল ছিলো ঐটুকু।

কি আর করেছিলাম তোমার লয়ে
কি ভেবেছিলাম নিজের আনমনে
জানতেও চাওনি কখনও আর
আর জানবেও না কোনকালে।
আজ এই ব্যার্থতার গ্লানি শুকিয়ে ক্ষত
পুড়িয়ে দিয়েছি সবটুকু

দেখেছিলে আমার অগাধ মুল্য
কাছে এসে রাত্রি যাপনে কিছুটা নরম বুকে
মাথা রেখে কেঁদে শুধু
জীবনে নিয়েছিলাম একে।
তুমি বোঝোনি আজও
মুছে দাও নি অশ্রুটুকু

ওরে আমার ভুলের জন্য নিজের ওপরে আক্ষেপ তোমার নেই
তুমি সেই নিকৃষ্ট ছিলে আজো নিকৃষ্টই রয়ে গেলে ।

Tuesday, July 11, 2017

ভালোবাসি

ভালোবাসি,
নোনা জলের রাতগুলোতে তোকে ভালবাসি।
ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের ব্যবধানে তোকে ভালোবাসি,
রাস্তার মোড়ের ব্যস্ত সময়ে তোকে ভালোবাসি
বাতাসের প্রতিটি ঘ্রাণে তোকে ভালোবাসি।
...
একাকী রাতে ল্যম্পোস্টের নষ্ট সোডিয়াম আলোটা জ্বলা-নিভার সময় তোকে আলোকিত করে ভালোবাসি,
গোধূলি নেমে যাওয়ার সময় গগনে মেঘের খসে পড়া মুহূর্তে আবারো কল্পনার জোড়ায় তোকে ভালোবাসি।
কারণ আমি তোকে ভালোবাসি।
তুই মিথ্যা বললেও তোকে আমি ভালোবাসি,
সত্যি করে মিথ্যা বললেও আমি তোকেই ভালোবাসি।
তোর ক্লান্তির ঘাম শরীর থেকে মাটিতে পড়ার সময় তোকে ভালোবাসি।
তুই ধর্ষিতা? তোকে ভালোবাসি।
তুই গগন ফাটা হাহাকার! তোকে ভালোবাসি।
তুই ইস্রাফিলের শিঙ্গার হুংকার? তোকে ভালোবাসি,
তুই কানে না আসা ধ্বনি, তোকে ভালবাসি।
তুই পৃথিবীর নরকের যন্ত্রণা? তোকে ভালোবাসি।
তুই আমাকে ঘৃণা করিস? তোকে ভালোবাসি,
তুই যখন নরম বিছানায় উত্তেজনায় শীৎকারে অন্য পুরুষের পিঠ খাবলে রক্তারক্তি করবি তখনও তোকে ভালোবাসি,
শেষ বয়সে যখন রাস্তায় দেখা হলে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চলে যাবি তোকে তখনও ভালোবাসি।
পদার্থবিজ্ঞানের সব সুত্রের বিপরীতে তকে তোকে ভালোবাসি,
তুই চাস কি না চাস তোকে ভালোবাসি।
এতক্ষণ যা শুনলি সবকিছু মিথ্যা হলেও তোকে ভালোবাসি।
কারণ একটা সময় মিথ্যা করেই তুই আমাকে বলেছিলি তুই আমাকে ভালোবাসিস,
এখন আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে টুকরো হয়ে গেছে,
শুনতে পাচ্ছিস? কাঁচের গ্লাসটা ভেঙ্গে গেছে
জোড়া না লাগলেও তোকে ভালবাসি।

Sunday, June 18, 2017

এটা আমার লেখা ৬ষ্ঠ সুইসাইড নোট

আমি একটু বেশি আমার মতো আজাইরা ভাবি।ভাবতে ভাবতে নিজের ভাবনাটাকে এতো দূরে নিয়ে যাই যে আমার মতন এতটা কেউ ভাবে না সেটাই ভুলে যাই।হয়তো কেউ বললো- "দোস্ত তোকে খুব ভালোবাসি রে"।
.
তখন অন্যান্য মানুষ হলে ভাবতো হ্যা আমার ফ্রেন্ড আমাকে কতো ভালোবাসে।~ আমি তখন ভাবি- ' আমারা ফ্রেন্ড। কতো ভালো আমি তোকেও বাসি। তুই হয়তো আবেগটা নিজের মধ্যে রাখতে পারিস না।আমি হয়তো পারি। হয়তো অনেক বছর পরে বুড়ো হয়ে যাবো।তখন তুই আর আমি পুকুর পাড়ে বসে হুইল বড়শি দিয়ে মাছ মারবো। এখন কার মতো আগুনে পুড়িয়ে মজা করে খেতে পারবো না। আসলে তখন তো দাঁতই থাকবে না ঠিকমতো। কতো ভালবাসা আমাদের মধ্যে। অতো দিন পরেও একইসাথে থাকবো।'
জানিস তুলোনা না করলে না আমরা কেউ বুঝতে পারি না যে কে আমার আসল বন্ধু/বান্ধবী। আমি কতোটা কোমল দেখ এ.সি. ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ চলছে তাও আমি ঘেমেই চলেছি। তোকে হারানোর ভয়ে।
তুই যদি আমার ভালোবাসার মানুষ মানে জীবনসঙ্গী হইতি তাহলে আমিও এসব চিন্তা এক সেকেন্ডের মধ্যে করেই বলতাম তোকে -" আমিও তোকে ভালোবাসি। যখন আমরা বুড়ো হয়ে যাবো তখন সমুদ্রের পাড়ে আগুনের সামনে শীতের দিনে বসে থাকতাম। তখন তুই ভায়োলিন বাজাইতি আর আমি অপলক দৃষ্টিতে তোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম।জানিস তখন না তোর গালে বুড়ো বয়সের ছাপ পরতো,চামড়াগুলো ভাজ হয়ে থাকতো।আমি তখনও তোকে ভালোবাসি।"
আমি এগুলোর কিছুই পারি না। না পারি তোদের ভালোবাসতে না পারি তোদের খুশি রাখতে। পারি শুধু তুলনা করতে।
আমার এই একটা ছোট্ট কারণেও সুইসাইড করতে ইচ্ছা করে। আমি আমার নিজ ঈশানের সাথেই কথা বলি একা একা।আমাকে কিছু না শিখাতে পারলি তো কি হয়েছে আমারর নিজের ঈশানকে তো শিখেয়েছিস। ওই ঈশানই আমাকে বাচিয়ে রাখে। বারে বারে ছিনিয়ে নিয়ে আসে আমায় মৃত্যুর হাত থেকে।
বাচতে হবে তো আমাকে। তোকে না হাসালে হবে?

Thursday, June 15, 2017

চকলেট - -আর রফিউ খান ঈশান


ঈশান। এমন একটা ছেলে যে কোনোদিন  প্রেমে বিশ্বাস করেনা। ও ওর মনে একটা মেয়ের চিত্র আকে। নিজের মতো করে সাজায় ওই মেয়েটাকে নিজের মনে। ভালোবাসে ওর ওই কল্পনার মেয়েটাকেই। ও এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছে। রোজকার মতই আজো মানুষকে হাসি খুশি করা তার কাজ। তাই এখনও তার বন্ধুদের গল্পে আড্ডায় মাতিয়ে রেখেছে।
হঠাৎ করেই দেখতে পেলো সামনে দিয়ে এক অপরুপা যাচ্ছে। একদম তার মনে আঁকা সেই মেয়েটার মতোই এই মেয়েটা। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। তার বন্ধু এটা দেখে বললো:
- কিরে ঈশান! হুট করে কি হলো তোর?
- হ্যা? কই না দোস্ত। কিছুনা।
- কিছু তো হইছেই। মেয়েটাকে পছন্দ হইছে?
- ধুর। কি যে বলিস না।
- বলা যায় না দোস্ত। মানুষের মন তো! কি থেকে কি হয় বলা তো যায় না তাইনা?
- তোর মাথায় কি যে ঘোরে!
-  চল ক্লাসে যাই।
- ওকে চল।

এরপরে থেকেই মেয়েটার দিকে রোজ তাকিয়ে থাকতো ঈশান। কাউকে বুঝতে দিতো না ও। এভাবেই কেটে গেলো প্রায় ১৫/১৬ দিন।
রাত ১১ টা বাজে। তার বোন এসেছে তার কম্পিউটার এ গেম খেলতে। তার বোন তার এক ক্লাস নিচে পরে। ১ম বর্ষে। হঠাৎ তার বোন ফেসবুক এ ঢুকলো। ঈশান খেয়াল করলো আরে! এইটাই তো সেই মেয়ে যাকে সে রোজ দেখে ভার্সিটিতে।
-আপু মেয়েটা কে রে?
- আমার ফ্রেন্ড। কেন কি হইছে ভাইয়া?
- না মানে সেদিন দেখলাম তো!
- ও আচ্ছা।
- নাম কি?
- মৌসুমি।
- ওয়াও। থাকে কোথায়?
- ওই তোর হইছে কিরে?
- মানে কি? কি হবে?
- সিরিয়াসলি বল।  তুই তো মেয়েদের নিয়ে এতো ঘাটিস নানা।কিছু তো একটা হইছেই।
- আরে না। কিছুনা।
- মেয়েটাকে পছন্দ হইছে ভাইয়া?
ঈশান চুপ করে আছে
- -ওই? কিরে পছন্দ?
- সিরিয়াসলি হ্যাঁ। আমি যেমনটা ভাবি ঠিক তেমনটা।
- ওয়াও। গ্রেট ভাইয়া।
- হেল করবি?
- হ্যা আমার ভাইটার জন্য করতেই পারি।
- ঠ্যাংক ইউ আপু। শোন। ওকে আমার সাথে এফবি তে মিট করায়া দে।
- আচ্ছা।
- আর হ্যা। কালকে একটা জিনিস ওকে দিতে হবে।
- কি?
- একটা চিঠি দিবি। কিন্তু বলবি যে একটা ভাইয়া তোকে দিছে চিঠিটা।
- বাহ। এটা কি হলো? নাম বলবি না?
- জ্বি না।আচ্ছা ও কি বেশি পছন্দ করে?
- যদি সমস্ত দুনিয়ার মাঝে সব জিনিসের কথা বলিস তাহলে ও পছন্দ করে Kitkat চকলেট। ও কি বলে জানিস? ওকে যদি কোন ছেলে রোজ এই চকলেট খাওয়ায় তাহলে ও নাকি তাকে বিয়ে করবে। হা হা হা
- হা হা হা। মজা পাইলাম রে বইন। আচ্ছা সাথে একটা কিটক্যাট ও নিয়ে যাবি।
- ওকে ভাইয়া। আমি গেলাম। সকালে চিঠি দিস।
- আচ্ছা টাটা।
- টাটা

সকালে একটা চিঠি আর একটা বড়ো কিটক্যাট তার বোনের কাছে দিয়ে মৌসুমিকে পাঠালো।
- মৌ।……………………   আই হারামি।
- হ্যা তোর এতো লেট হলো?
- তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে একটা। তাই।
- আচ্ছা কি শুনি?
- এইনে।
- এটা কি?
- দেখ কি?
- মানে কি?
- তোর লাভ লেটার। সাথে তোর পছন্দের একটা চকলেট।
- ওয়াও? সিরিয়াস্লি?
- হ্যা তো।
- কে দিলো এটা?
- জানি না একটা ভাইয়া এসে আমাকে তোর কথা বলে দিয়ে গেলো।
- আচ্ছা দিলো বুঝলাম। কিন্তু ও কিভাবে জানলো যে আমি কিটক্যাট পছন্দ করি?
- আল্লাহ জানে।চিঠিতে কি লেখা রে?
- তোকে বলবো কেন?
- ওই আমারে কবি না তুই?
- আচ্ছা দারা। দেখ লেখা আছে “রোজ আমার একটা চিঠি তোমার জন্য অমক যায়গায় রাখা থাকবে। সাথে একটা কিটক্যাট।
- বাহ
-  জোশ তো। তা কি ভাবছিস?
- কোনদিন কেউ আমাকে এভাবে প্রোপজ করে নি। বুঝতে পারছিনা কি করবো!
- আরে টেনশন নিস না। চালিয়ে যা। বুঝতেই পারছিস রোজ কিটক্যাট।
- হা হা আচ্ছা দেখি।
- ওই চল ক্লাসের দেরি হয়ে যাবে।
- হ্যাঁ চল।
রোজ এভাবে চিঠি আর চকলেট আদান প্রদান হতেই থাকে তাদের। অপর দিকে ছোট বোনের খাতিরে ঈশানের সাথে কথাবার্তা চলে মৌ এর। তাছাড়া তারা দুজনেই গেম খেলা ভিশন পছন্দ করে। তাই তাদের গলায় গলায় ভাব। কিন্তু মৌ অনেক চেষ্টার পরেও তার অজানা ঈশানকে দেখতে পায় না।
কোনদিন খুজে পায়নি কোন ছেলে তাকে এগুলো দেয় Even. সে ছেলেটার নামও জানে না। ওকে মৌ অদেখা বলে ডাকে। আর মৌ এর ডাক নাম বাবলি। আশ্চর্যজনক ভাবে ঈশানের স্বপ্নের মেয়েটার নামও ঈশান বাবলি দিয়েছিলো। এভাবেই কেটে গেলো ৬ টা মাস।ফেসবুকে কথা বলছে ঈশান আর মৌ
- মৌ আছো?
- হ্যাঁ ঈশান বলো!
- তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
- হ্যা অবশ্যই বলো।
- তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
- ঈশান। দেখো তুমিই আমার জীবনে একমাত্র ছেলে যার সাথে আমি এতোটা মিশেছি। অনেক ভাল তুমি। কিন্তু আমি একটা অচেনা ছেলেকে ভালোবাসি।
- অচেনা ছেলেকে মানে?
অদেখা ছেলে সম্পরকে সব বলে ইশানকে।
-ওহ আচ্ছা। আসলে আমি জানতাম না।
- সরি ঈশান।
- আরে ইটস ওকে।
- আচ্ছা আজকে বাই।
- ওকেই বায়।
ঈশানের খুশি দেখে কে। ওর বোনকে নিয়ে নাচতে শুরু করে দিলো।ওদিকে ভোর হওয়ার পরেই মৌ বের হয়ে পরে বাইরে। আজকে ও অদেখা ছেলেটাকে দেখবেই ও। ঈশান ওদিকে তার চিঠি আর চকলেট রাখতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পরে মৌ এর কাছে। মৌ খুশিতে কেঁদে ফেলে। এক মুহুর্ত দেরি না করে জরিয়ে ধরে ঈশানকে।
শুরু হয় তাদের প্রেম ভালোবাসার খুনশুটি।

মৌ এর কাছে ওয়াদা ছিলো ঈশান বিয়ের আগে তার হাত ধরে আর জরিয়ে ধরা ছাড়া কিছু করতে পারবে না আর ঈশান সেটা সহজ ভাবেই মেনে নিয়েছিলো।

       এভাবেই কেটে যায় ২ টা বছর। একটা বার মৌকে দেখার জন্য ঈশান রাত ১ টার সময়ও সাইকেলে করে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেখা করতে আসতো।
বিধাতা কখন কার ভাগ্যে কি লেখে তা তো আর বলা যায় না। একটা আ্যক্সিডেন্টে ঘঘটনাস্থলেই মারা যায় মৌ। সেদিন ঈশানের আর্তনাদ দেখে হয়তো রাস্তার পিচ গুলোও কেঁদে ছিলো।
এতক্ষণ এই কথা গুলো ঈশানের বোন তার বন্ধু বান্ধবীদের বলতেছিলো। সবাই ঈশানকে দেখতে চায়।ঈশান এর এখন কি অবস্থা।

সেদিন বিকালে সবাইকে ঈশানের বোন এক যায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়  ঈশান একটি বড়ো থলিতে অনেকগুলা কিটক্যট চকলেট নিয়ে ঘোরে আর যেখানেই কাপল দেখতে পায় তাদের হাতে একটা একটা  করে দিয়ে দেয়।
- সমাপ্ত

Tuesday, March 21, 2017

স্বপ্ন




স্বপ্ন একটি অনুভুতি মিশ্রিত গল্পের মতো,
স্বপ্ন বেঁচে থাকার জন্য এক প্রদীপের মতো।
স্বপ্ন চোখের মাঝে জোনাকির আলোর মতো
স্বপ্ন বুকের ভেতর বিশাল এক সমুদ্রের মতো।
কিন্তু এই স্বপ্ন কখনও
জীবনকে করে তুলে সুন্দর থেকে অতি সুন্দর।
আবার,
এ স্বপ্ন কখনও বা মনকে করে তোলে
বেদনায় বিশর, যন্ত্রণায় কাতর।
স্বপ্ন কখনও বা শেখায় কাউকে ভালবাসতে...
কখনও শেখায় অন্যকে চিনতে...
হয়তো হতে পারে এক অবাস্তব কাহিনীর মতো,
কিংবা থাকতে পারে অপূর্ণ বা বাস্তবের চেয়ে অতি রঙিন।
যাই হোক না কেনো স্বপ্ন তো দেখতেই হবে
আর স্বপ্ন নিয়েই তো বাঁচতে হবে।