Saturday, November 18, 2017

চরিত্রহীনা বালিকা- ইসমাইল রাসেল ভাইয়ের লেখা


অদক্ষ আঁচে কড়াইয়ের তলানিতে পোড়াশব্দে ঝোলের কড়াপাক। অগোছালো নিরস অবস্থায় চারপাশ। ইহা রাঁধুনি অভাবহেতু পরিবেশে একটি রান্নাঘর ।
গল্পলেখায় দৃশ্যপট বুঝাইতে কঠিনদশার প্রভাব না থাকলে লেখক, খুব কাছ থেকে এক কপাট খোলা জানালার গ্রিল আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশমুখী বালিকা,চাপা ঠোটে,অপারগ চোখে চাহুনি বিলাপে, ঠিক এমনই শুরুদায়িত্ব নিতেন। সদ্য রন্ধনগৃহ বুঝে নেয়া বালিকাটির এরূপ দৃশ্য বেশ আশ্চর্যের।
চঞ্চলমতি যে মেয়েটি ফোনের বার্তাবহ টুকো সংকেতেই আহত নিহত হয়েছে মত ব্যাকুলিত হত,শব্দিত হবার প্রতি মুহূর্তেই ফোন ধরার বাজিতে খুন হত। নজর পেতে কড়াশব্দে পোড়াতে ব্যাস্ত,অগ্নিদাহ চুলো। ব্যর্থ শব্দ, শ্রবন প্রতিক্রিয়া বালিকা মস্তিস্কে তবুও শান্ত।
সুক্ষ্ম মৃদু বাতাসেও কোটি আপন রসে লোমহর্ষিত হইত সে, হিমেল হাওয়ানন্দে হাসিতে হাসিতে কুচিকুচি হত কারন অযথা এই সুখপূর্ণ স্পর্শীতা । এখন বাতাসের তীব্রতর বেগ ও অনুগত স্পর্শহীনতার কাছে, বাতাসে এখন আর ছন্দ নাই, হীমেল হাওয়া ক্ষমতাচ্যুত মনছোয়ায়,অসীম আনন্দ যোগীও আজ ব্যর্থ মন কে হেলাইতে।
আপন ঠোঁটের কর্ন বাকা হাসি হাসি ভঙ্গিমায় বসে, ভালোবাসায় সিক্ত অসম্ভব পাগল মন কলমে চেপে লেখে দিতো ডায়েরীতে যতনে যত কথা, চাঁদকে শুনাবে বলে। চন্দ্রমুখীর উচ্চাকাঙ্ক্ষীয় ডায়েরী বিলাপ চাঁদবদন আর শোনেনা। ঘোরতর চন্দ্র নেশাগ্রস্থ মেয়েটি এখন চন্দ্রালোতেই হয় আহত।
গুনগুন গান আর গানের তালেনামা অঙ্গদুলানো ছন্দ বালিকা দেহে ভর করে থাকতো সারাটাদিন। শান্তিদূত গান, কষ্টভাগে গান, মহাসিন্ধুটা ও যেনো পদতলে নুইয়ে দিতো গান। সেই একি গানের কলিগুলো হৃদয় নিংড়ে ভালোবাসাকে অলৌকিক ভালোলাগতে আর দেয়না। শিউরে ওঠা অদ্ভুত রোমাঞ্চিত মুহূর্ত গুলোই এখন দৈত্যাকার হৃদয়খেকো।
আকাশের নীলাভ সৌন্দর্য কি এখন নীলিমার ভোগে নিশ্চিহ্ন? আকাশপটে মনভাসিয়ে ভালোবাসার উত্তরে এখন বুকেপিঠে মেঘজমাট ব্যথা অনুভূত হয় কেনো? বৃষ্টিজল কি নতুন করে ফুটন্ত অগ্নিলাভারর ধর্মে পরবর্তিত? বৃষ্টিপাতের একবিন্দু জলের কনাতেও এখন হৃদয় ছিদ্রে জ্বলন হবে কেনো? ফুলগুচ্ছ বর্নবিয়োগে ফ্যাকাসে, প্রজাপতিরা মন মরা, গাছিরাজ্য নিরাশ কেন?
কারন বালিকা চরিত্র হারিয়েছে।
বালিকাতে হারানো রাজ্যের মহারানী জয়ী হয়েছে। তার সব সুখ, রানীতে সপে দিয়েছে। অবশিষ্ট খণ্ডিত হৃদয় খানাই বর্ণান্ধতার বেরসিক কারন।
এমন চরিত্রহীনা তে কে করিবে ভরসা, অন্যতে সবটা সপে দেয়ার ক্ষত সারাতে মৃত্যুই বালিকার একান্ত আশা। ভালোবাসার অভিনয়মঞ্চ ভীষণভাবে রঞ্জিত ছিলো, বুঝতেই পারেনি সরল নজর, রঞ্জিতকরণ উপায়ে হরন হয়েছে সে। দেহ মন দুটোই একিঘরে লুটপাট হয়েছে, চরিত্রহীন দেয়ালের ওপাশে সফল অভিনয়বিদ্যা। প্রমান পত্রের উপাদান, মিথ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস আর হৃদয় দানে খাটি মন, বালিকা সমীকরণ এ চরিত্রহীনা প্রমানিত।
চরিত্রহীনা বালিকা, সে তো রাত জাগে। অন্ধ ভালোবেসে উপহার হিসেবে অন্ধকার অর্জন করেছে। রাতের অন্ধকারাবৃতা তার মিতা এতেই যে তার ভালোলাগে। সম্ভব না কারো এই অন্ধত্ব বোঝা। মন দেয়াতে নাকচ অভিযোগে সবার ভাবনা ভালোবাসায় অনিচ্ছুক বালিকা , দেহলী ভোগেচ্ছা পোষনে বলে, সে তো চরিত্রহীনা বালিকা। হায়রে ভালোবাসা! বেসেছিলাম ভালো হলাম সর্বহারা, এখন আমি ভোগের পাত্র যদি না হই কারো।
বালিকার চরিত্রনাশকারী অভিনেতা এখন উত্তম চরিত্রে ভালোবাসা বাসি খেলায় মগ্ন। বালিকার প্রেমে পড়ে, নতুন করে শত প্রেমিকের আগমন। মন তো নাই দেবে কাকে, সব ই সেই পুরনো অভিনয় লাগে দিয়েছিল মন যাকে ।
সত্যমনে ভালোবেসে মিথ্যে ভালোবাসার ফাঁদে পড়ে ভালোবাসার নামে ভালোবাসার ই দায়ে দেহ মন কে ভালোবাসার পাত্রে বিসর্জন দিয়ে ভালোবাসার হাতেই খোদিত হয়েছে ভালোবাসাহীন চরিত্রহিনা বালিকা নামে!

No comments:

Post a Comment