Thursday, June 15, 2017

চকলেট - -আর রফিউ খান ঈশান


ঈশান। এমন একটা ছেলে যে কোনোদিন  প্রেমে বিশ্বাস করেনা। ও ওর মনে একটা মেয়ের চিত্র আকে। নিজের মতো করে সাজায় ওই মেয়েটাকে নিজের মনে। ভালোবাসে ওর ওই কল্পনার মেয়েটাকেই। ও এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছে। রোজকার মতই আজো মানুষকে হাসি খুশি করা তার কাজ। তাই এখনও তার বন্ধুদের গল্পে আড্ডায় মাতিয়ে রেখেছে।
হঠাৎ করেই দেখতে পেলো সামনে দিয়ে এক অপরুপা যাচ্ছে। একদম তার মনে আঁকা সেই মেয়েটার মতোই এই মেয়েটা। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। তার বন্ধু এটা দেখে বললো:
- কিরে ঈশান! হুট করে কি হলো তোর?
- হ্যা? কই না দোস্ত। কিছুনা।
- কিছু তো হইছেই। মেয়েটাকে পছন্দ হইছে?
- ধুর। কি যে বলিস না।
- বলা যায় না দোস্ত। মানুষের মন তো! কি থেকে কি হয় বলা তো যায় না তাইনা?
- তোর মাথায় কি যে ঘোরে!
-  চল ক্লাসে যাই।
- ওকে চল।

এরপরে থেকেই মেয়েটার দিকে রোজ তাকিয়ে থাকতো ঈশান। কাউকে বুঝতে দিতো না ও। এভাবেই কেটে গেলো প্রায় ১৫/১৬ দিন।
রাত ১১ টা বাজে। তার বোন এসেছে তার কম্পিউটার এ গেম খেলতে। তার বোন তার এক ক্লাস নিচে পরে। ১ম বর্ষে। হঠাৎ তার বোন ফেসবুক এ ঢুকলো। ঈশান খেয়াল করলো আরে! এইটাই তো সেই মেয়ে যাকে সে রোজ দেখে ভার্সিটিতে।
-আপু মেয়েটা কে রে?
- আমার ফ্রেন্ড। কেন কি হইছে ভাইয়া?
- না মানে সেদিন দেখলাম তো!
- ও আচ্ছা।
- নাম কি?
- মৌসুমি।
- ওয়াও। থাকে কোথায়?
- ওই তোর হইছে কিরে?
- মানে কি? কি হবে?
- সিরিয়াসলি বল।  তুই তো মেয়েদের নিয়ে এতো ঘাটিস নানা।কিছু তো একটা হইছেই।
- আরে না। কিছুনা।
- মেয়েটাকে পছন্দ হইছে ভাইয়া?
ঈশান চুপ করে আছে
- -ওই? কিরে পছন্দ?
- সিরিয়াসলি হ্যাঁ। আমি যেমনটা ভাবি ঠিক তেমনটা।
- ওয়াও। গ্রেট ভাইয়া।
- হেল করবি?
- হ্যা আমার ভাইটার জন্য করতেই পারি।
- ঠ্যাংক ইউ আপু। শোন। ওকে আমার সাথে এফবি তে মিট করায়া দে।
- আচ্ছা।
- আর হ্যা। কালকে একটা জিনিস ওকে দিতে হবে।
- কি?
- একটা চিঠি দিবি। কিন্তু বলবি যে একটা ভাইয়া তোকে দিছে চিঠিটা।
- বাহ। এটা কি হলো? নাম বলবি না?
- জ্বি না।আচ্ছা ও কি বেশি পছন্দ করে?
- যদি সমস্ত দুনিয়ার মাঝে সব জিনিসের কথা বলিস তাহলে ও পছন্দ করে Kitkat চকলেট। ও কি বলে জানিস? ওকে যদি কোন ছেলে রোজ এই চকলেট খাওয়ায় তাহলে ও নাকি তাকে বিয়ে করবে। হা হা হা
- হা হা হা। মজা পাইলাম রে বইন। আচ্ছা সাথে একটা কিটক্যাট ও নিয়ে যাবি।
- ওকে ভাইয়া। আমি গেলাম। সকালে চিঠি দিস।
- আচ্ছা টাটা।
- টাটা

সকালে একটা চিঠি আর একটা বড়ো কিটক্যাট তার বোনের কাছে দিয়ে মৌসুমিকে পাঠালো।
- মৌ।……………………   আই হারামি।
- হ্যা তোর এতো লেট হলো?
- তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে একটা। তাই।
- আচ্ছা কি শুনি?
- এইনে।
- এটা কি?
- দেখ কি?
- মানে কি?
- তোর লাভ লেটার। সাথে তোর পছন্দের একটা চকলেট।
- ওয়াও? সিরিয়াস্লি?
- হ্যা তো।
- কে দিলো এটা?
- জানি না একটা ভাইয়া এসে আমাকে তোর কথা বলে দিয়ে গেলো।
- আচ্ছা দিলো বুঝলাম। কিন্তু ও কিভাবে জানলো যে আমি কিটক্যাট পছন্দ করি?
- আল্লাহ জানে।চিঠিতে কি লেখা রে?
- তোকে বলবো কেন?
- ওই আমারে কবি না তুই?
- আচ্ছা দারা। দেখ লেখা আছে “রোজ আমার একটা চিঠি তোমার জন্য অমক যায়গায় রাখা থাকবে। সাথে একটা কিটক্যাট।
- বাহ
-  জোশ তো। তা কি ভাবছিস?
- কোনদিন কেউ আমাকে এভাবে প্রোপজ করে নি। বুঝতে পারছিনা কি করবো!
- আরে টেনশন নিস না। চালিয়ে যা। বুঝতেই পারছিস রোজ কিটক্যাট।
- হা হা আচ্ছা দেখি।
- ওই চল ক্লাসের দেরি হয়ে যাবে।
- হ্যাঁ চল।
রোজ এভাবে চিঠি আর চকলেট আদান প্রদান হতেই থাকে তাদের। অপর দিকে ছোট বোনের খাতিরে ঈশানের সাথে কথাবার্তা চলে মৌ এর। তাছাড়া তারা দুজনেই গেম খেলা ভিশন পছন্দ করে। তাই তাদের গলায় গলায় ভাব। কিন্তু মৌ অনেক চেষ্টার পরেও তার অজানা ঈশানকে দেখতে পায় না।
কোনদিন খুজে পায়নি কোন ছেলে তাকে এগুলো দেয় Even. সে ছেলেটার নামও জানে না। ওকে মৌ অদেখা বলে ডাকে। আর মৌ এর ডাক নাম বাবলি। আশ্চর্যজনক ভাবে ঈশানের স্বপ্নের মেয়েটার নামও ঈশান বাবলি দিয়েছিলো। এভাবেই কেটে গেলো ৬ টা মাস।ফেসবুকে কথা বলছে ঈশান আর মৌ
- মৌ আছো?
- হ্যাঁ ঈশান বলো!
- তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
- হ্যা অবশ্যই বলো।
- তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
- ঈশান। দেখো তুমিই আমার জীবনে একমাত্র ছেলে যার সাথে আমি এতোটা মিশেছি। অনেক ভাল তুমি। কিন্তু আমি একটা অচেনা ছেলেকে ভালোবাসি।
- অচেনা ছেলেকে মানে?
অদেখা ছেলে সম্পরকে সব বলে ইশানকে।
-ওহ আচ্ছা। আসলে আমি জানতাম না।
- সরি ঈশান।
- আরে ইটস ওকে।
- আচ্ছা আজকে বাই।
- ওকেই বায়।
ঈশানের খুশি দেখে কে। ওর বোনকে নিয়ে নাচতে শুরু করে দিলো।ওদিকে ভোর হওয়ার পরেই মৌ বের হয়ে পরে বাইরে। আজকে ও অদেখা ছেলেটাকে দেখবেই ও। ঈশান ওদিকে তার চিঠি আর চকলেট রাখতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পরে মৌ এর কাছে। মৌ খুশিতে কেঁদে ফেলে। এক মুহুর্ত দেরি না করে জরিয়ে ধরে ঈশানকে।
শুরু হয় তাদের প্রেম ভালোবাসার খুনশুটি।

মৌ এর কাছে ওয়াদা ছিলো ঈশান বিয়ের আগে তার হাত ধরে আর জরিয়ে ধরা ছাড়া কিছু করতে পারবে না আর ঈশান সেটা সহজ ভাবেই মেনে নিয়েছিলো।

       এভাবেই কেটে যায় ২ টা বছর। একটা বার মৌকে দেখার জন্য ঈশান রাত ১ টার সময়ও সাইকেলে করে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেখা করতে আসতো।
বিধাতা কখন কার ভাগ্যে কি লেখে তা তো আর বলা যায় না। একটা আ্যক্সিডেন্টে ঘঘটনাস্থলেই মারা যায় মৌ। সেদিন ঈশানের আর্তনাদ দেখে হয়তো রাস্তার পিচ গুলোও কেঁদে ছিলো।
এতক্ষণ এই কথা গুলো ঈশানের বোন তার বন্ধু বান্ধবীদের বলতেছিলো। সবাই ঈশানকে দেখতে চায়।ঈশান এর এখন কি অবস্থা।

সেদিন বিকালে সবাইকে ঈশানের বোন এক যায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়  ঈশান একটি বড়ো থলিতে অনেকগুলা কিটক্যট চকলেট নিয়ে ঘোরে আর যেখানেই কাপল দেখতে পায় তাদের হাতে একটা একটা  করে দিয়ে দেয়।
- সমাপ্ত

No comments:

Post a Comment