Friday, November 17, 2017

আবেগে লেইখা ফালাইছি

আমি তোমারো লাগিয়া ভেবেছিনু কিনিবো মোর আত্মার ক্রোধ। ভেবেছিনু ইহা নাহি যাইতে দেয় তোমারো নিকটে আর সেই বোধে ইহাকে কিনে ছুড়িয়া ফেলিবো আগুনেরও গভীরে। তারিপরে সখী তোমারে লইয়া হারাইয়া যাইবো সকল ব্যাস্ততারি জীবন ফেলিয়া। এতো প্রেম পাইবো কোথাতে বলো, কোথাতে খুজিবো তোমারো বাহু, কোথাতে রাখিবো মাথাখানি যদি নাহি বা থাকে তোমারো উপ্তপ্ত হৃদয়খানি? পাইবে না গো পাইবে না। পাইবে না এই সাধুলিপির উত্তর গুলো। আর কি হারাইবে না মোর লগে? যাইবে কি না মোর সহিত কাশফুলে শরীর মাখাইতে? নাকি আজি হইয়াছি পুরাতন বস্তু যাহা ভাবিয়া ফেলিয়া দিয়াছো আমারে?

আইসো মোর বাসায়। পাটিতে বসিয়া আবারো তোমারে লইয়া রবী ঠাকুর এর গান শুনিতে শুনিতে বাদাম চিবাইবো। আবারও অশ্রু ঢালিবো তোমার স্তন্যললাটে, আবারো শান্তিতে মরিয়া যাইবো তোমার ভালোবাসার লাগি।

Thursday, November 16, 2017

আমার একটি না ভোলা ট্রেন জার্নি :3

 ঢাকা যাচ্ছি আর ট্রেনে পাশেই বসছে এক আজাইরা পাব্লিক।😠 মুখ দিয়া খালি আজাইরা কথা বাইরইর হয়। তারপর এক হিজরার দল উঠলো।😃

লোক:এদের নিয়ে যে কি করি,সারাদিন বিরক্ত করে মানুষদের।
আমি:আপনি ওদের মতো হলে আপনি ও ওদের মতো করতেন।😒
-না আসলেই দেখেন সরকার থেকে তো ওদের টাকা দেয় তারপরেও ট্রেনে এইরকম করে।😁
-সরকার একজন সৎ পুলিশ এবং একজন অসৎ পুলিশকেও মাসে ১৫-২০ হাজার করে বেতন দেয়। যারা গ্রামে বাস করে তারা মোটামুটি বেচে থাকে। যারা শহরে বাস করে তাদের ২ নম্বরি করাই লাগে। বেচে থাকার জন্য।😂
-না আপনি ভাবেন একবার।কত টাকা ওঠে ওদের ১ মাসে এক এক জনের।
-আব্বুর পকেট মারলে আমার মাসে ওদের পুরো গ্রুপের থেকেও বেশি টাকা উঠতো।😂
-তা ওদের কতো টাকা ওঠে?
-আপনি ই জিজ্ঞাসা করে দেখুন।😠

অত:পর লোকটি আর কথা বলেনি। 

২/৩ মিনিট পরে হিজরা লোকটি এসে বললো:
-ঈশান ভাই ভালো আছেন? 
-হ্যা আপনি ভালো তো? আপনার মা কেমন আছেন? 
-ভাই আপনে সেদিন রক্ত না দিলে আমার মা মারাই যেতেন। 
-মরা বাচা আল্লাহর হাতে। এই নেন ৫০ টাকাই রাখেন। 
-আপনাকে আল্লাহ অনেকদিন বাচিয়ে রাখুক। 
-ইনশা আল্লাহ।
-ভালো থাকবেন।
-জি। আপ্নিও।আর আপনার মাকেও ভালো রাখবেন।
-আচ্ছা। 😃

অত:পর ঐ আজাইরা লোকটির সাথে কথা বলার সময় যারা আমার দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো তাদের চোখে আমার জন্য মায়া এবং পাশের লোকটির জন্য সমবেদনা দেখলাম। 😒🐸😂

(বি.দ্র: হিজরা লোকটির মা ২ বছর আগে আ্যক্সিডেন্টের পরে রাতে ৭০০ মিলি রক্ত একাই দিয়েছিলাম। 😎 তার ফলে আজকে কিছুটা সম্মান পেলাম।)
-
(বি.দ্র.২: সবাইকে সম্মান করলে আপনিও সম্মান পাবেন।আমার আজকের বাস্তব অভিজ্ঞতা।  আর কিছু মানুষকে বাশ দেয়া ফরজ কাজ   )

Tuesday, November 14, 2017

ধরবো ধরবো করেও তোমায় ধরতে পারি না।

ধরবো ধরবো করেও তোমায় ধরতে পারি না।

স্মৃতির স্মারকে লেখা আমার ভালোবাসা খুটিয়ে দেখার প্রয়োজনটাও বোধ করলে না। বোধ করলে আমার লুকিয়ে দেখা তোমার মায়াখানি। বোধ করলে না ফুস এর জি২জির আড়ালে থেকে তোমায় লুকিয়ে দেখা। বোধ করলেও না অপরের ছোয়ায় তুমি যখন পরতে পরতে বেচে গেলে একরাশ ব্যাথা বুকে নিয়ে ঠোটের কোনে মিথ্যে হাসিতে হাসিয়েছিলাম সবাইকে। বোধ করলে না তুমি আমার ভেতরের বাতাস যখন আমাকেই সরি বলে মুখ ফিরালে অন্যদিকে।

তোমার জন্য জমা করে কিছু রাখিনি। আমার ভালোবাসা অনেক বেশি হে প্রিয়সী। উহা বোঝোনি কি শুধু আজ বয়সের ব্যবধানের জন্য নাকি আবার ভাবছো ফাঁদ হয়ে এসেছি তোমার আলিঙ্গনে? আবারো  কি বিশ্বাস করবে আরেকটা রুক্ষ ব্যথা নিয়ে বেচে থাকা মানুষকে যে কেঁদে যায় হাসির মাঝে, বৃষ্টির মাঝে? কি ভাবছো? হ্যাঁ তুমি যা ভাবছো সেটাই কারণ আমিও তাই ভাবি।

কথাগুলো বের হয়ে আসে ভেতর থেকেই বুকে মাথা রেখে দেখো আজীবন শুনিয়ে যাবো ভালোবাসার শ্রুতি। শুধু দাও না একবার চিৎকার করে কান্না করতে তোমাকে নিয়ে বাহুডোরে জড়িয়ে বলবো “হে প্রিয় আরাধি, ভালোবাসি তোমাকে”। তোমার একটু ছলনার জন্য ভেবে কি নিবো ভেবেছো তোমার থাকবে আমার উপরে রাগে জমা কতো অভিমান? তা নহে রে মানসিকিনি।


সব ভুলে মাথা রাখলেই যে ভুলে যাবো তোমার সাথে এইতো কিছু সময় বিলম্বেই ঝগড়ায় মত্ত ছিলাম। আমার কোঠরে ঝুলে আছে ভালোবাসাটুকু। নিজের করে রেখো। আমি তো ধরবো ধরবো করেও ধরতে পারছি না তোমাকে। তুমিই না হয় ছিনিয়ে নিও আমায়।

Sunday, November 5, 2017

নিকৃষ্ট ৩ -আর রাফিউ খান ঈশান

অগোচর থেকে একটু বেশি
তোমাকে কাছে চেয়েছিলাম শুধু
আজ এতোকালে বুঝেছি আমি
ভুল ছিলো ঐটুকু।

কি আর করেছিলাম তোমার লয়ে
কি ভেবেছিলাম নিজের আনমনে
জানতেও চাওনি কখনও আর
আর জানবেও না কোনকালে।
আজ এই ব্যার্থতার গ্লানি শুকিয়ে ক্ষত
পুড়িয়ে দিয়েছি সবটুকু

দেখেছিলে আমার অগাধ মুল্য
কাছে এসে রাত্রি যাপনে কিছুটা নরম বুকে
মাথা রেখে কেঁদে শুধু
জীবনে নিয়েছিলাম একে।
তুমি বোঝোনি আজও
মুছে দাও নি অশ্রুটুকু

ওরে আমার ভুলের জন্য নিজের ওপরে আক্ষেপ তোমার নেই
তুমি সেই নিকৃষ্ট ছিলে আজো নিকৃষ্টই রয়ে গেলে ।

Tuesday, July 11, 2017

ভালোবাসি

ভালোবাসি,
নোনা জলের রাতগুলোতে তোকে ভালবাসি।
ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের ব্যবধানে তোকে ভালোবাসি,
রাস্তার মোড়ের ব্যস্ত সময়ে তোকে ভালোবাসি
বাতাসের প্রতিটি ঘ্রাণে তোকে ভালোবাসি।
...
একাকী রাতে ল্যম্পোস্টের নষ্ট সোডিয়াম আলোটা জ্বলা-নিভার সময় তোকে আলোকিত করে ভালোবাসি,
গোধূলি নেমে যাওয়ার সময় গগনে মেঘের খসে পড়া মুহূর্তে আবারো কল্পনার জোড়ায় তোকে ভালোবাসি।
কারণ আমি তোকে ভালোবাসি।
তুই মিথ্যা বললেও তোকে আমি ভালোবাসি,
সত্যি করে মিথ্যা বললেও আমি তোকেই ভালোবাসি।
তোর ক্লান্তির ঘাম শরীর থেকে মাটিতে পড়ার সময় তোকে ভালোবাসি।
তুই ধর্ষিতা? তোকে ভালোবাসি।
তুই গগন ফাটা হাহাকার! তোকে ভালোবাসি।
তুই ইস্রাফিলের শিঙ্গার হুংকার? তোকে ভালোবাসি,
তুই কানে না আসা ধ্বনি, তোকে ভালবাসি।
তুই পৃথিবীর নরকের যন্ত্রণা? তোকে ভালোবাসি।
তুই আমাকে ঘৃণা করিস? তোকে ভালোবাসি,
তুই যখন নরম বিছানায় উত্তেজনায় শীৎকারে অন্য পুরুষের পিঠ খাবলে রক্তারক্তি করবি তখনও তোকে ভালোবাসি,
শেষ বয়সে যখন রাস্তায় দেখা হলে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চলে যাবি তোকে তখনও ভালোবাসি।
পদার্থবিজ্ঞানের সব সুত্রের বিপরীতে তকে তোকে ভালোবাসি,
তুই চাস কি না চাস তোকে ভালোবাসি।
এতক্ষণ যা শুনলি সবকিছু মিথ্যা হলেও তোকে ভালোবাসি।
কারণ একটা সময় মিথ্যা করেই তুই আমাকে বলেছিলি তুই আমাকে ভালোবাসিস,
এখন আমার বিশ্বাস ভেঙ্গে টুকরো হয়ে গেছে,
শুনতে পাচ্ছিস? কাঁচের গ্লাসটা ভেঙ্গে গেছে
জোড়া না লাগলেও তোকে ভালবাসি।

Sunday, June 18, 2017

এটা আমার লেখা ৬ষ্ঠ সুইসাইড নোট

আমি একটু বেশি আমার মতো আজাইরা ভাবি।ভাবতে ভাবতে নিজের ভাবনাটাকে এতো দূরে নিয়ে যাই যে আমার মতন এতটা কেউ ভাবে না সেটাই ভুলে যাই।হয়তো কেউ বললো- "দোস্ত তোকে খুব ভালোবাসি রে"।
.
তখন অন্যান্য মানুষ হলে ভাবতো হ্যা আমার ফ্রেন্ড আমাকে কতো ভালোবাসে।~ আমি তখন ভাবি- ' আমারা ফ্রেন্ড। কতো ভালো আমি তোকেও বাসি। তুই হয়তো আবেগটা নিজের মধ্যে রাখতে পারিস না।আমি হয়তো পারি। হয়তো অনেক বছর পরে বুড়ো হয়ে যাবো।তখন তুই আর আমি পুকুর পাড়ে বসে হুইল বড়শি দিয়ে মাছ মারবো। এখন কার মতো আগুনে পুড়িয়ে মজা করে খেতে পারবো না। আসলে তখন তো দাঁতই থাকবে না ঠিকমতো। কতো ভালবাসা আমাদের মধ্যে। অতো দিন পরেও একইসাথে থাকবো।'
জানিস তুলোনা না করলে না আমরা কেউ বুঝতে পারি না যে কে আমার আসল বন্ধু/বান্ধবী। আমি কতোটা কোমল দেখ এ.সি. ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এ চলছে তাও আমি ঘেমেই চলেছি। তোকে হারানোর ভয়ে।
তুই যদি আমার ভালোবাসার মানুষ মানে জীবনসঙ্গী হইতি তাহলে আমিও এসব চিন্তা এক সেকেন্ডের মধ্যে করেই বলতাম তোকে -" আমিও তোকে ভালোবাসি। যখন আমরা বুড়ো হয়ে যাবো তখন সমুদ্রের পাড়ে আগুনের সামনে শীতের দিনে বসে থাকতাম। তখন তুই ভায়োলিন বাজাইতি আর আমি অপলক দৃষ্টিতে তোর দিকে তাকিয়ে থাকতাম।জানিস তখন না তোর গালে বুড়ো বয়সের ছাপ পরতো,চামড়াগুলো ভাজ হয়ে থাকতো।আমি তখনও তোকে ভালোবাসি।"
আমি এগুলোর কিছুই পারি না। না পারি তোদের ভালোবাসতে না পারি তোদের খুশি রাখতে। পারি শুধু তুলনা করতে।
আমার এই একটা ছোট্ট কারণেও সুইসাইড করতে ইচ্ছা করে। আমি আমার নিজ ঈশানের সাথেই কথা বলি একা একা।আমাকে কিছু না শিখাতে পারলি তো কি হয়েছে আমারর নিজের ঈশানকে তো শিখেয়েছিস। ওই ঈশানই আমাকে বাচিয়ে রাখে। বারে বারে ছিনিয়ে নিয়ে আসে আমায় মৃত্যুর হাত থেকে।
বাচতে হবে তো আমাকে। তোকে না হাসালে হবে?

Thursday, June 15, 2017

চকলেট - -আর রফিউ খান ঈশান


ঈশান। এমন একটা ছেলে যে কোনোদিন  প্রেমে বিশ্বাস করেনা। ও ওর মনে একটা মেয়ের চিত্র আকে। নিজের মতো করে সাজায় ওই মেয়েটাকে নিজের মনে। ভালোবাসে ওর ওই কল্পনার মেয়েটাকেই। ও এখন অনার্স ২য় বর্ষে পড়ছে। রোজকার মতই আজো মানুষকে হাসি খুশি করা তার কাজ। তাই এখনও তার বন্ধুদের গল্পে আড্ডায় মাতিয়ে রেখেছে।
হঠাৎ করেই দেখতে পেলো সামনে দিয়ে এক অপরুপা যাচ্ছে। একদম তার মনে আঁকা সেই মেয়েটার মতোই এই মেয়েটা। অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। তার বন্ধু এটা দেখে বললো:
- কিরে ঈশান! হুট করে কি হলো তোর?
- হ্যা? কই না দোস্ত। কিছুনা।
- কিছু তো হইছেই। মেয়েটাকে পছন্দ হইছে?
- ধুর। কি যে বলিস না।
- বলা যায় না দোস্ত। মানুষের মন তো! কি থেকে কি হয় বলা তো যায় না তাইনা?
- তোর মাথায় কি যে ঘোরে!
-  চল ক্লাসে যাই।
- ওকে চল।

এরপরে থেকেই মেয়েটার দিকে রোজ তাকিয়ে থাকতো ঈশান। কাউকে বুঝতে দিতো না ও। এভাবেই কেটে গেলো প্রায় ১৫/১৬ দিন।
রাত ১১ টা বাজে। তার বোন এসেছে তার কম্পিউটার এ গেম খেলতে। তার বোন তার এক ক্লাস নিচে পরে। ১ম বর্ষে। হঠাৎ তার বোন ফেসবুক এ ঢুকলো। ঈশান খেয়াল করলো আরে! এইটাই তো সেই মেয়ে যাকে সে রোজ দেখে ভার্সিটিতে।
-আপু মেয়েটা কে রে?
- আমার ফ্রেন্ড। কেন কি হইছে ভাইয়া?
- না মানে সেদিন দেখলাম তো!
- ও আচ্ছা।
- নাম কি?
- মৌসুমি।
- ওয়াও। থাকে কোথায়?
- ওই তোর হইছে কিরে?
- মানে কি? কি হবে?
- সিরিয়াসলি বল।  তুই তো মেয়েদের নিয়ে এতো ঘাটিস নানা।কিছু তো একটা হইছেই।
- আরে না। কিছুনা।
- মেয়েটাকে পছন্দ হইছে ভাইয়া?
ঈশান চুপ করে আছে
- -ওই? কিরে পছন্দ?
- সিরিয়াসলি হ্যাঁ। আমি যেমনটা ভাবি ঠিক তেমনটা।
- ওয়াও। গ্রেট ভাইয়া।
- হেল করবি?
- হ্যা আমার ভাইটার জন্য করতেই পারি।
- ঠ্যাংক ইউ আপু। শোন। ওকে আমার সাথে এফবি তে মিট করায়া দে।
- আচ্ছা।
- আর হ্যা। কালকে একটা জিনিস ওকে দিতে হবে।
- কি?
- একটা চিঠি দিবি। কিন্তু বলবি যে একটা ভাইয়া তোকে দিছে চিঠিটা।
- বাহ। এটা কি হলো? নাম বলবি না?
- জ্বি না।আচ্ছা ও কি বেশি পছন্দ করে?
- যদি সমস্ত দুনিয়ার মাঝে সব জিনিসের কথা বলিস তাহলে ও পছন্দ করে Kitkat চকলেট। ও কি বলে জানিস? ওকে যদি কোন ছেলে রোজ এই চকলেট খাওয়ায় তাহলে ও নাকি তাকে বিয়ে করবে। হা হা হা
- হা হা হা। মজা পাইলাম রে বইন। আচ্ছা সাথে একটা কিটক্যাট ও নিয়ে যাবি।
- ওকে ভাইয়া। আমি গেলাম। সকালে চিঠি দিস।
- আচ্ছা টাটা।
- টাটা

সকালে একটা চিঠি আর একটা বড়ো কিটক্যাট তার বোনের কাছে দিয়ে মৌসুমিকে পাঠালো।
- মৌ।……………………   আই হারামি।
- হ্যা তোর এতো লেট হলো?
- তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে একটা। তাই।
- আচ্ছা কি শুনি?
- এইনে।
- এটা কি?
- দেখ কি?
- মানে কি?
- তোর লাভ লেটার। সাথে তোর পছন্দের একটা চকলেট।
- ওয়াও? সিরিয়াস্লি?
- হ্যা তো।
- কে দিলো এটা?
- জানি না একটা ভাইয়া এসে আমাকে তোর কথা বলে দিয়ে গেলো।
- আচ্ছা দিলো বুঝলাম। কিন্তু ও কিভাবে জানলো যে আমি কিটক্যাট পছন্দ করি?
- আল্লাহ জানে।চিঠিতে কি লেখা রে?
- তোকে বলবো কেন?
- ওই আমারে কবি না তুই?
- আচ্ছা দারা। দেখ লেখা আছে “রোজ আমার একটা চিঠি তোমার জন্য অমক যায়গায় রাখা থাকবে। সাথে একটা কিটক্যাট।
- বাহ
-  জোশ তো। তা কি ভাবছিস?
- কোনদিন কেউ আমাকে এভাবে প্রোপজ করে নি। বুঝতে পারছিনা কি করবো!
- আরে টেনশন নিস না। চালিয়ে যা। বুঝতেই পারছিস রোজ কিটক্যাট।
- হা হা আচ্ছা দেখি।
- ওই চল ক্লাসের দেরি হয়ে যাবে।
- হ্যাঁ চল।
রোজ এভাবে চিঠি আর চকলেট আদান প্রদান হতেই থাকে তাদের। অপর দিকে ছোট বোনের খাতিরে ঈশানের সাথে কথাবার্তা চলে মৌ এর। তাছাড়া তারা দুজনেই গেম খেলা ভিশন পছন্দ করে। তাই তাদের গলায় গলায় ভাব। কিন্তু মৌ অনেক চেষ্টার পরেও তার অজানা ঈশানকে দেখতে পায় না।
কোনদিন খুজে পায়নি কোন ছেলে তাকে এগুলো দেয় Even. সে ছেলেটার নামও জানে না। ওকে মৌ অদেখা বলে ডাকে। আর মৌ এর ডাক নাম বাবলি। আশ্চর্যজনক ভাবে ঈশানের স্বপ্নের মেয়েটার নামও ঈশান বাবলি দিয়েছিলো। এভাবেই কেটে গেলো ৬ টা মাস।ফেসবুকে কথা বলছে ঈশান আর মৌ
- মৌ আছো?
- হ্যাঁ ঈশান বলো!
- তোমাকে কিছু কথা বলার ছিলো।
- হ্যা অবশ্যই বলো।
- তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।
- ঈশান। দেখো তুমিই আমার জীবনে একমাত্র ছেলে যার সাথে আমি এতোটা মিশেছি। অনেক ভাল তুমি। কিন্তু আমি একটা অচেনা ছেলেকে ভালোবাসি।
- অচেনা ছেলেকে মানে?
অদেখা ছেলে সম্পরকে সব বলে ইশানকে।
-ওহ আচ্ছা। আসলে আমি জানতাম না।
- সরি ঈশান।
- আরে ইটস ওকে।
- আচ্ছা আজকে বাই।
- ওকেই বায়।
ঈশানের খুশি দেখে কে। ওর বোনকে নিয়ে নাচতে শুরু করে দিলো।ওদিকে ভোর হওয়ার পরেই মৌ বের হয়ে পরে বাইরে। আজকে ও অদেখা ছেলেটাকে দেখবেই ও। ঈশান ওদিকে তার চিঠি আর চকলেট রাখতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পরে মৌ এর কাছে। মৌ খুশিতে কেঁদে ফেলে। এক মুহুর্ত দেরি না করে জরিয়ে ধরে ঈশানকে।
শুরু হয় তাদের প্রেম ভালোবাসার খুনশুটি।

মৌ এর কাছে ওয়াদা ছিলো ঈশান বিয়ের আগে তার হাত ধরে আর জরিয়ে ধরা ছাড়া কিছু করতে পারবে না আর ঈশান সেটা সহজ ভাবেই মেনে নিয়েছিলো।

       এভাবেই কেটে যায় ২ টা বছর। একটা বার মৌকে দেখার জন্য ঈশান রাত ১ টার সময়ও সাইকেলে করে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দেখা করতে আসতো।
বিধাতা কখন কার ভাগ্যে কি লেখে তা তো আর বলা যায় না। একটা আ্যক্সিডেন্টে ঘঘটনাস্থলেই মারা যায় মৌ। সেদিন ঈশানের আর্তনাদ দেখে হয়তো রাস্তার পিচ গুলোও কেঁদে ছিলো।
এতক্ষণ এই কথা গুলো ঈশানের বোন তার বন্ধু বান্ধবীদের বলতেছিলো। সবাই ঈশানকে দেখতে চায়।ঈশান এর এখন কি অবস্থা।

সেদিন বিকালে সবাইকে ঈশানের বোন এক যায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়  ঈশান একটি বড়ো থলিতে অনেকগুলা কিটক্যট চকলেট নিয়ে ঘোরে আর যেখানেই কাপল দেখতে পায় তাদের হাতে একটা একটা  করে দিয়ে দেয়।
- সমাপ্ত