Thursday, July 14, 2016

এটি একটি সত্য প্রেম কাহিনি

এটি একটি সত্য কাহিনি,
" বাহিরে অনেক কথা শুনা যাচ্ছে। মিলি জানালায় উঁকি দিয়ে দেখল কি হচ্ছে বাহিরে? মিলিদের বাসা মিরপুর সেউড়া পাড়া । পাশের বাসায় মনে হয় নতুন  ভাড়াটিয়া আসলো । ট্রাক থেকে মালপত্র নামাচ্ছে আর লেবাররা কথা বলছে ।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল রক্তিমের উপর। লম্বা ফরসা চোখ দুটো হরিণের চোখের মতন বড় বড়। ঠোঁটটা একদম গোলাপি। দেখলে মনে হয় মেয়েদের মতন লিপিস্টিক লাগিয়েছে । মনে মনে ভাবছে ছেলে মানুষ এত সুন্দর হয় নাকি ?
গরমে গালটা লাল হয়ে আছে, জুলফির পাশ দিয়ে ঘাম বেয়ে বেয়ে পড়ছে । মিলি অপলক নয়নে তাকিয়ে আছে রক্তিমের দিকে।

হঠাৎ তার কানে ভেসে এলো কে যেন বলছে হ্যালো , ক্ষমা করবেন । আপনাদের অসুবিধা হচ্ছে নিশ্চয়ই । মিলির ঘোর কাটল এবং দেখল ঐ ছেলেটি কথা বলছে । মিলি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, না না ঠিক আছে কোন অসুবিধা নাই ।
রক্তিম বলল, অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে । আমাদের কাজিপাড়া বাসা। বাসার কাজ শুরু করছে তাই কিছুদিন আপনাদের পাশেই থাকতে এলাম । মুচকি হেসে কথাটা বলল রক্তিম । মাঝে মাঝে আসবেন আমাদের বাসায় । আমার মা আছে ভাবি আছে তাদের সাথে গল্প করতে পারবেন । মিলি বলল, ঠিক আছে আসব । মিলির মা একজন স্কুল শিক্ষিকা, বাবা চোখের ডাক্তার । একটা ভাই ব্যবসা করে । ৩ বোনের মাঝে মিলি মেজো , বড় বোন মুক্তা, ছোটো বোন মিতু । মা বাবা ভাই সবসময়ই ব্যস্ত থাকেন । তাদেরকে সময় দিবার মতন সময় মা-বাবার ছিল না । বড় বোনের বর সিলেট চা বাগানের ম্যানেজার ছিল । বাসায় শুধু মিলি আর মিতু থাকত, আর থাকত তাদের নানু এবং একটা কাজের মেয়ে ।

এদিকে কিছুদিনের মধ্যেই মিলি ও রক্তিমের পরিবারের মাঝে বেশ ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে ।

মিলি প্রায় প্রতিদিন স্কুলে থেকে আসার পর রক্তিমদের বাসায় গিয়ে রক্তিমের ভাবির সাথে, মায়ের সাথে গল্প করতো । সবাই খুব আদর করতো মিলিকে । রক্তিমের সাথেও তার ভালো সম্পর্ক হয়ে যায়। এক পর্যায়ে দুজন দুজনাকে ভালোবেসে ফেলে । রক্তিমরা ৩ ভাই ১ বোন । বোনের বিয়ে হয়ে গেছে । ২ ভাই জাপান থাকে । কিছুদিন আগে বড় ভাই বিয়ে করে গেছে । মেজো ভাই এখনো বিয়ে করে নাই। রক্তিম কলেজে পড়ে। ওর বাবা সবসময়ই বলতো আমার ছোট ছেলে হলো আমার হাতের লাঠি । কারণ মা-বাবা কে ডাক্তার দেখানো, বাজার করা থেকে শুরু করে বাসার সব কিছুর দায়িত্ব ছিল তার উপর ।

এদিকে মিলির মেট্রিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে । তাদের দুজনের ভালোবাসার কথা সবাই জেনে গেছে । রক্তিমদের বাড়ি থেকে কোন আপত্তি ছিল না । কারণ তারা সবাই মিলিকে খুব পছন্দ করতো । পছন্দ করার মতনই মেয়ে ছিল সে । যেমন দেখতে সুন্দর, তেমন তার আচার-আচরণ ছিল খুবই ভালো । সবসময় হাসি-খুশি থাকত । তাদের ইচ্ছা ছিল পড়ালেখা শেষ হলে তাদের বিয়ে দিবে । এদিকে তাদের ভালোবাসার কথা শুনে মিলিদের বাসার সবাই মিলে বকাঝকা করে তাকে। গালে থাপ্পড় দিয়ে তার ভাই তাকে বলেছে, আর যেন কোনদিন রক্তিমের সাথে কথা বলতে না দেখি । রক্তিমের মা-বাবাকেও তারা অপমান করেছে আর বলেছে তাদের ছেলে যেন মিলির সাথে আর কথা না বলে ।


এ ঘটনার পর মিলির রক্তিমদের বাসায় যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। রক্তিম দের বাসায় যাওয়া তো নিষেধ, তাই তারা রাতে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলত । এভাবে কেটে যায় আরও কিছুদিন । এদিকে রক্তিম দের বাসা প্রায় রেডি । মাসখানেক এর মধ্যে তারা বাসায় চলে যাবে । দুজনেই চিন্তার মধ্যে আছে। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না । মিলির বান্ধবীর গায়ে হলুদ ছিল সেদিন। ছোটো বোন মিতুকে নিয়ে বান্ধবীর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বেশ সাজগোজ করে গেছে মিলি। বাসায় ফিরে আসার পর দেখে কেউ বাসায় নাই । রক্তিমকে ফোন করল তাদের বাসায় আসতে পারবে নাকি তার মা কে জিজ্ঞাসা করতে । রক্তিম বলল বাসায় তো কেউ নেই, সবাই আমাদের বাসার কাজ কেমন হলো দেখতে গেছে । মিলি বলল আমি আসছি তাহলে । মিতু ছোট ছিল সে শুনে বলল, আপু ভাইয়া যদি জানতে পারে তুমি রক্তিম ভাইদের বাসায় গেছ তোমাকে আবার মারবে, তুমি যেওনা । মিলি বলল, ভাইয়া আসার আগেই আমি চলে আসবো ।
মিলি আজ জীবনের প্রথম শাড়ি পরে সেজেছে আর রক্তিম কাছ থেকে দেখবে না এটা হতে পারে না । এই ভেবে সে রক্তিমদের বাসায় যায় ।

রক্তিম মিলিকে শাড়িতে দেখে চোখ ফেরাতে পারছে না । মিলি হেসে বলল কি দেখছ এমন করে ?? আমাকে কি আগে আর দেখ নাই ? রক্তিম বলল, দেখেছি কিন্তু তুমি যে এত সুন্দর তাতো খেয়ালই করি নাই । তুমি সবসময়ই এই ভাবে শাড়ি পরে থাকবে । মিলি আসার পরপরই তার ভাই বাসায় এসে দেখে মিলি বাসায় নাই ।

মিতুকে জিজ্ঞাসা করলে মিতু ভয় পেয়ে বলে দেয় মিলি রক্তিমদের বাসায়। সে রেগে বের হয়ে যায় রক্তিমদের বাসায় ।
এদিকে রক্তিম কাজের বুয়াকে ডেকে বলে বুয়া মিষ্টি নিয়া আসো তোমার নূতন ভাবিকে মিষ্টি মুখ করাই । বুয়া মিষ্টি দিয়ে চলে যায়। দরাজায় কে যেন রিং করছে । রক্তিম মিলিকে যেই মিষ্টি খাওয়াতে গেছে ওই মুহূর্তে মিলির ভাই এসে দেখে ফেলে। মিলিকে শুধু বলে আজকে তুই বাসায় আয় তোর আজকে শেষ দিন । এই বলে চলে যায় । মিলি ভয়
পেয়ে রক্তিমকে বলল চল আমরা মোক্তা আপার বাসায় সিলেট চলে যাই। ওইখানে গিয়া বিয়ে করে ফেলবো ।

রক্তিম বলে কিছু হবে না তুমি চিন্তা করো না । মিলি ভয়ে কান্না করছে আর শুধু একই কথা, চলো এখনই যাবো । আমি আর আমাদের বাসায় যাবো না । মিলির কান্না দেখে রক্তিম বলল ঠিক আছে চলো যাই । মিলি ও রক্তিম খিলখেত ট্রেন ইষ্টিশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে কখন ট্রেন আসবে? তাড়াহুড়া করে আসতে গিয়ে তারা টাকা আনতেই ভুলে গেছে । রক্তিমের পকেটে ছিল মাত্র ১২৫ টাক্ এখন হাতে আছে ৭৫ টাকা। কি করবে কি ভাবে যাবে কিছুই বুজতে পারছিল না । তারা একটা চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিল । মিলিদের বাসায় যখন জানতে পারে তখন তারা থানায় তাদের নিখোঁজের কথা জানায়। ভোর হতে কিছু সময় বাকি । দুই পরিবার মিলে ঠিক করল ওদের খুঁজে পেলে দুজন কে বিয়ে করায় দিবে । এদিকে মিলির অনেক ক্ষুধা লেগেছে। রক্তিম চা আর একটা পাউরুটি কিনে মিলিকে দিলো । দুজনেই খাওয়া শেষ করে চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিল।

হঠাৎ মিলির কি যে হল সে বলতে লাগলো, বাসায় গেলও মারবে। আমাদের কাছে টাকাও নেই যে সিলেট যাব। আসো কারো কাছে টাকা চেয়ে দেখি কেউ যদি ট্রেনের ভাড়াটা দেয় । রক্তিম বলল কি বল এই সব ? তার চেয়ে চলো বাসায় ফিরে যাই । মিলি বলল, তুমি জানো না আমার ভাই যদি পায় তাহলে কেটে ফেলবে, আমাদের বাসায় যাব না । তুমি বস আমি দেখি রাস্তা ভাড়ার টাকা জোগাড় করতে পারি নাকি ?

কয়েক জনের কাছে সে টাকা চাইলো কিন্তু কেউ একটা টাকাও দেয় নাই । মনটা খারাপ করে বসে আছে দুজনেই। এমন সময় ট্রেনের শব্দ শুনতে পেয়ে মিলি দৌড়াতে শুরু করে এবং বলে আমি মরে যাই তাই ভালো হবে। রক্তিম মিলির পেছনে পেছনে দৌড়াতে থাকে আর বলে পাগলামি করো না, দাঁড়াও যেও না । কিন্তু মিলি ট্রেনের নিচে মুহূর্তের মাঝেই পিষে গেলো আর রক্তিমের মাথা থেকে শরীর ভাগ হয়ে গেলো। পুলিশ আসলো, চায়ের দোকানদারের কাছ থেকে সব শুনল । পরে তাদের বাসায় ফোন করে লাশ শনাক্ত করতে আসতে বলল । এখন দুই পরিবার একসাথে তাদের
স্মরণ করে ।


@ গল্পটা একটু বড় হয়ে গেলো । এই গল্পটা সম্পূর্ণ সত্য এমন কি নাম জায়গা @
 

" এখানে আমি বলতে চাই , শাসন করলেই যে সন্তান ভাল হবে এমনটা ভাবা ঠিক না । আদর করে ভালোবাসা দিয়ে তাদের মনের কথা জানার চেষ্টা করুন । তাদের বুঝানোর চেষ্টা করুন । আর যারা প্রেম করবে তাদেরও উচিৎ মা বাবার সম্মানের কথা ভেবে চলা । মৃত্যু কোন ভাবেই কোন কিছুর সমাধান নয় । যদি মিলি জীবন না দিয়ে রক্তিম কে বিয়ে করে ফেলত তাহলো আজকে সুখে সংসার করতে পারতো । রক্তিম আর মিলির মতন আর যেন কেউ
এভাবে ভালবেসে অকালে প্রাণ না হারায় । " 


লেখার মাঝে ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

No comments:

Post a Comment