বাবাঃ ঈশান? রাত কয়টা বাজে আর তোকে কয়টা পর্যন্ত পড়তে বলছি?
ঈশানঃ কালকে তো শুক্রবার তাই আজ একটু পরছি। আর একটা পড়া মুখস্ত হলে আর পড়তে ইচ্ছা হয়না।
-তোর জা অবস্থা তোকে বড়ো হয়ে রিক্সা চালাতে হবে বুজলি ?
-আরে আমি গেমস ডেভলপার হব বলসি হয়েই ছাড়বো।
পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হলে তোর গায়ের হাড়, মাংস আর ছাল ৩ জায়গায় থাকবে বলে দিলাম।
পরীক্ষার রেজাল্টের সময়ঃ
-এখন বল তোকে কি করা উচিৎ? খুব তো লাফালাফি করছিলি যে পরিক্ষা ভালো হবে।, হারামজাদা এই তোর ভালো পরীক্ষা? ৩.৫০ পাইছিস । আর সে নাকি গেমস ডেভলপার হবে!
-অংক, কম্পিউটার এ তো এ+ ই পাইছি।
-তোকে ডাবের সাথে ঝুলিয়ে পিটাতে হবে।
-ধ্যাত! ভাল্লাগে না খালি বক কেন ঘোড়ার ডিম
-তোকে আর কিচ্ছু বলব না। যা খুশী কর।
বিকাল ৪ টায় বাবলীর ফোন...
ঈশানঃ হ্যা বাবলী বল। তোর রেজাল্ট কি?
বাবলীঃ আমি তো প্রতিবারের মতই GPA-5 পাইলাম। তুই নিশ্চই ৩.৫০ এর উপরে পাস নাই
ঈশানঃ একদম কানায় কানায় এটাই পাইছি।
-তো আঙ্কেল নিশ্চই আদর করছে খুব?
-সে তো করবেই। তার একটা মাত্র ছেলে না আমি?
-ভালই করছে... তরে আরো বকা উচিৎ মাই উলু লুলু বেস্ট ফ্রেন্ড। সারা দিন রাত গেমস খেলার পরেও যে তুই পরিক্ষায় এ- পাস এটা তো তোর জন্য সৌভাগ্য।
-দোস্ত রেয়েলী খুব বকছে।
-আচ্ছা তুই ভালো করে পরালেখা করতে পারিস না?
- একটু ও মন চায় না দোস্ত। পড়তে লাগ্লে বইয়ের উপ্রে দেখি আমার Lamborghini Gallardo চালাচ্ছি
-ওরে তুই বিষ খা আমি মইরা যাই
-ধুর! এর আগের ৪ তা জিএফ আমার লগে ব্রেকাপ করছে । এইবার ভাবছি যে মাইয়া গেম খেলে তারে বিয়া করমু।
-এমন মাইয়া কই পাবি বাংলাদেশে ?
-তুই ই তো আছিস। তোকেই কইরালামু টেনশন নিস না আচ্ছা তুই এক কাজ করতে পারিস।
-কি?
-আমার জন্য এখন থেকে ভালো করে লেখাপড়া করতে পারবি না?
-আহারে !!! মনে হয় যে আমি ভালো করে পরলে তুই আমারে বিয়া করবি?
-চাঞ্চ পাইলে মিস করবো না
-লেখাপড়া করে আমি কি কাটবো ? ঘোড়ার ঘাস না ছাগলের ঘাস?
-আমি বলছি তুই করবি ব্যাস... জাস্ট প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে পরবি...
-যদিও সারাজিবনেও সব মিলিয়ে ২ ঘণ্টা পরি নাই তবে তুই যখন বলছিস আমি পরবো কিন্তু আমার সাথে রোজ মালটিপ্লেয়ার এ গেম খেলতে হবে... রাজি?
-ওকে ডান
কঠোর পরিশ্রম করার পরে কেটে গেছে ১ বছর ৬ মাস । টেস্ট এর রেজাল্ট দিয়েছে ঈশানের। বাবাকে ১ বছর ৬ মাস পরে নিজে থেকে রেজাল্ট দেখাতে নিয়ে এসেছে ঈশান।
ঈশান- বাবা আমার রেজাল্ট।
বাবা-বাব্বা কি মনে করে রেজাল্ট দেখাতে নিয়ে আসলি? ফেইল করেছিস?
-দেখ কি করেছি।
-দে দেখি
....................................................................
-৪.৫০??? এতো ভালো কিভাবে করলি? তুই তো কোনদিন ২.০০ ই পাসনি :/
-বাবলীর জন্য পেয়েছি।
-ও তাহলে এই হলো বাবলীর সারপ্রাইজ? কিন্তু তোর ভাগ্যে কখনও A+ জুটবেনা...
-দেখে নিও বাবা A+ পাবো...
-হ্যা সে আমার জানা আছে। যা ভাগ।
বাবলীর ফোনঃ
ঈশান- হ্যালো দোস্ত?
- হ্যা বল বাবা কি বলল?
-বাবা খুশিনা... আমাকে নাকি ৫.০০ পেতে হবে !!! হুহ !!!
-আরে না উনি কখনও খুশি না হয়ে পারবেন না ! উনি আরালে খুশিই হয়েছেন।
-তাই?
-হ্যা। শোন আজকে থেকে তোর পড়ালেখা অনেক বেশি।আজ থেকে তোকে অনেক খাটাখাটি করতে হবে...
- আমি ভাবসিলাম যে তুই এই কথাই বলবি আমাকে।
-হ্যা। এখন থেকে রোজ ৭-৮ ঘণ্টা করে পড়বি...
-এতো?
- হ্যা এতো।
- ওরে শালা!
- ওই তোরে পড়তে বলছি পড়বি ব্যাস। ( চিৎকার করে)
-ওই আমি পড়বো সমস্যা নাই পড়বো।। এতো জোরে ধমক দিস কেনো ভয় লাগে তো
-যাক তাহলে পড়বি?
- অনেক পড়বো আমাকে যে তোর থেকেও ভালো রেজাল্ট করতে হবে রে...হাজার হলেও তোকে তো বউ বানাতে হবে তাইনা?
-উমমমমমম...... সখ কত্ত পোলার দেখ
-আচ্ছা আমি কি পারবো?
- হ্যা তুই পারবি। আমার ঈশান পারবে আমি জানি।
-তোর ঈশান মানে?
- না মানে তুই ই তো আমার এক মাত্র বেস্ট ফ্রেন্ড ।
- হ্যা সেতাই।। ওকে আমি পারবো।
-এইতো বাবু গুড
-ওকে টাটা।
-টাটা।
এইস.এস.সি পরীক্ষা শেষ। বিকালে বাবলীর সাথে ঈশান ঘুরছে।
ঈশানঃ দোস্ত আজকে রাত্রে ৯.৩০ এ তোদের ছাদে আসিস। আগে ফোন এ কথা বলতাম আর চাঁদ দেখতাম, কিন্তু আজকে একসাথে দেখবো...
-তাই নাকি? ওকে আসবো। দেখাই যাবে হা হা ।
-চল ফুস্কা খাই। ট্রিট আমি দিবো।
- তুই দিবি চল তাড়াতাড়ি,আজকে ৩ প্লেট ফুস্কা খাবো।
- তোর যে পেটের সাইজ ওখানে ৩ তাই তো আটবে না আবার ৩ প্লেট?
- অই কুত্তা নজর দিবি না বলে দিলাম চোখ উপ্রে ফেলব
- হ্যা হইছে এখন চলেন।
- হুম
রাত ৯.৩০ বাবলি ছাদে আসলো পিছন থেকে হাত টেনে নিয়ে ধরলো ঈশান। বড়ো রকমের ভয় পেয়ে গেছে বাবলী।
বাবলীঃ এই তু তু তু তু তু তুই ছাদে কেমনে আইলি ?
ঈশানঃ ঐযে নারিকেল গাছ ওটা বেয়ে এসেছি।
-তোর বাসা তো ১ কিমি দূরে... আন্টি আসতে দিলো?
-নাহ আজ বাসায় বুয়া ছাড়া কেউ নাই। বাবা মা সবাই নানু বাসায়। পরশু আসবে।
-তাই আমি চলে এলাম।
-অনেক ভয় পেয়ে গেছিলাম দোস্ত ।
- আচ্ছা তুই জখন বিয়ে করবি তখন তুই তো তোর বউ কে বাবলি ডাকবি।
-হয়তো :( তুই তো সব এ জানিস যে বাবলী আমার সম্পূর্ণ মনের কল্পনার মেয়ে। যাকে কোনোদিন দেখিনি স্পর্শ করি নি কিছুই না... শুধু তাকে অনুভব করেছি আমার নিজের মধ্যে।
-হ্যা কিন্তু আমাকে তুই বাবলি বলে ডাকিস কেন? আমার তো নিজের একটা নাম আছে।
-তোর যে নিজের একটা নাম আছে সেটা তোকে বাবলি ডাকতে ডাকতে ভুলেই গেছি।
- এখন থেকে হয় আমাকে মৌ বলে ডাকবি না হলে শশী বলে ডাকবি।
-ধ্যাত!!! পারবো না
-কেনো?
-শুনতে চাস কেনো?
-হুম।
-আমাদের দেখা হয়েছিলো গত ৪ বছর ৬ মাস ২১ দিন আগে। তখন সবে মাত্র ক্লাস ৯ এ ভর্তি হয়েছিলাম। একটা একা একটা নিঃশব্দ বালক। যে কোনদিন স্বাধীনতা পায়নি তার জীবনে। বাবার আদর পায়নি কোনদিন। মা ই শুধু একটু দেখে দেখে রেখেছে। একটা মৃত মানুষ আর তখনকার ঈশানের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিলো না। তুই আমার জীবনে আসার পরে আমার মাঝে যা এসেছে তা আর কেউ দিতে পারতো না শুধু তুই আমাকে দিয়েছিস। আমি তোকে ছেরে কিভাবে আরেকটা মেয়েকে নিয়ে সারাজীবন কাটাবো বল? কিভাবে ভাবলি তুই যে তোর জায়গাটা আমি অন্য কাউকে দিবো । বাবলি যে শুধু বাবলি। এর কোন তুলনা নেই... এই অধিকারটা এক মাত্র তোর।
- তুই এসব কি বলছিস?
- আমি ঠিকই বলছি।
-আমি তো কিছুই বুজতেছিনা যে কি বুঝাতে চাইছিস তুই?
-বাবলি?
-হ্যা বল।
-আমি সারাজীবন শুধু আমার বাবলীকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। সেই অধিকারটা তোকে অনেক আগেই দিয়ে দিয়েছি। তুই সেটা নিবিনা?
-চোখ মুছে ফেলতো।
- হুম।
-এবার আয় চাঁদ দেখি।
-হুম। আমি যে চাই আমার বাবলীকে নিয়ে রোজ এভাবে চাঁদ দেখতে।
-বাবলী তো তোর পাশেই আছে।
-তুই তো মৌ।
-আজ থেকে আমি তোর বাবলী।
-সত্যি!!!
-হুম।
-তাহলে কাধে মাথা রেখে চাঁদ দেখি?
-সারাজীবন যদি দেখতে চাস তাহলে সুযোগটা দিতে পারি।
-হুম সারাজীবন রাখবো।
-এখন চাঁদ দেখি আসো।
-চলো চাঁদ দেখি।
No comments:
Post a Comment