ছায়া
ঈশান। সাধারণ একটা ছেলে।
একটি ছেলে মায়ের বকা খাচ্ছে। সারারাত ধরে ইন্টারনেটে
থেকে সকাল ৭ টায় ঘুমুতে যাওয়ার জন্য।
দুপুর ১ টার সময়ে উঠে পরিষ্কার হয়ে নামাজ পড়লো। তারপরে
রুমে বসে আছে। ফেসবুক চালাচ্ছে। হঠাত একটি মেয়ের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এলো।
তাদের কথা বলা শুরু হলো। মেয়েটা পরে কোন এক কলেজে।
ছেলেটা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি তে পরে। যদিও মেয়েটার কোন ছবি ছেলেটা দেখতে পায় না
কারণ ছবি দেওয়াই নেই এফবিতে। কিছুদিন কথা বলার পরে ছবি চায় ছেলেটা আর মেয়েটা বলে
ভিডিও কলে আসতে কারণ ছবির উপরে বিশ্বাস নেই মেয়েটার কখন কি করে বসে। ভিডিও কলে
প্রথমবার দেখেই ছেলেটা মেয়েটার প্রেমে পরে যায় আর মেয়েটার মনেও কিছু একটা ঘুরপাক
খেতে থাকে।
আস্তে আস্তে তাদের কথা বলা বাড়তে থাকে। কিন্তু কাউকে বলা
হয়না যে তারা একে অন্যকে ভালোবেসেই ফেলেছে।
এদিকে মেয়েটার পিছনে লাগে একজন হ্যাকার। তার কাছে
ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে কিছু একটা কতাহ বলে। মেয়েটার লোকেশন ট্র্যাক করে তার
বাসার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো মুখোশ পড়ে। একদিন দুইদিন তিনদিন করে যাওয়ার পরে
একদিন সেই মেয়েটার দেখা পায়। কথা বলতে চায়। কিন্তু কথা বলতে পারে না। মেয়েটা কথা
বলেনা।
এভাবে কয়েকদিন ট্রাই করে। একদিন কথা হয়।
মেয়েটা ছেলেটার মুখোশ নিয়ে অনেক মজা করে। ছেলেটা পরিচয়
দেয় সে একজন প্রফেশনাল হ্যাকার এবং সে সবাইকে মুখ দেখায় না। তাই মেয়েটাও দেখতে পায়
না। সে তার আইডীর কথা বলার পরে মেয়েটা চিনতে পারে সে আসলে কে। তারপরে কিছুক্ষণ কথা
বলে চলে যায়।
অপর দিকে একদিন ঈশান তাকে বলে দেখা করতে। মেয়েটা রাজি হয়
না কারণ সে বাবা মার একমাত্র মেয়ে আর বাবা মা এগুলা পছন্দ করে না বলে সে এগুলাতে
যায় না।
তারপরের দিন খুব জোর রিকুয়েস্ট করার পরে মেয়েটা রাজি হয়
দকেহা করতে।
দেখা হয় কথা হয়। শেষে কিছু একটা বলতে গিয়েও বলা হয়না
মেয়েটার আর ছেলেটারও কিন্তু দুজনে তখন বুঝতে পারে যে তাদের মধ্যে দুজনের জন্যই
ভালোবাসা কাজ করছে।
আরেকদিকে হ্যাকার ছেলেটা মেয়েটার আইপির সাহায্য নিয়ে তার
মোবাইল হ্যাক করতে সক্ষম হয়। তার ছবি ভিডিও এবং সেই ছেলেটার সাথে চ্যাটিং সবকিছুই
সে দেখে। তার সাথে মেয়েটার কিছু পার্সোনাল ছবি (ছোট গেঞ্জি পরা, ফ্রেন্ড সার্কেল
এর ছবি, তার বাবার ও মায়ের ছবি, কিছু পার্সোনাল সেলফি) ইত্যাদি। তার সাথে ক্যামেরা
হ্যাক করে মেয়েটার ড্রেস চেঞ্জ করার ভিডিও করে হ্যাকার। ছেলেটার প্ল্যান থাকে যে
এগুলা দিয়ে তাকে থ্রেট করবে। সে জানতে পারে মেয়েটার ঈশান এর সাথে রিলেশন চলে এবং
পাশাপাশি আরেকটা ছেলের সাথেও রিলেশন চলে।
২ দিন বাদে ঈশান মেয়েটার সাথে আবার দেখা করে। কারণ ঐদিন
তার বার্থডে ছিলো। সেদিন অনেক সুন্দর করে তার বার্থডে পালন করে। ইভেন মেয়েটার
জীবনে সব থেকে সুন্দর সারপ্রাইজ ছিলো সেটা। আসার আগে মেয়েটা একটা চিরকুট ধরিয়ে
দিয়ে আসে। সেখানে লেখা থাকে ভালোবাসি।
তারপরে তাদের রিলেশন চলতে থাকে।
এদিকে হ্যাকার একদিন তাকে তার কিছু পার্সোনাল ছবি পাঠায়
ও ভিডিও টা পাঠায় এবং বলে যে তাকে ১০০০০ টাকা না দিলে এগুলা ভাইরাল করে দিবে।
মেয়েটা কি করবে বুঝতে পারেনা। সে ঈশান কে কথাটা বলে আর
ঈশান বলে ছেলেটার ফেসবুক আইডি দিতে। তারপরে ঈশান কোন এক কায়দায় ছেলেটার এই কাহিনী
মেয়েটার সাথে শেষ করে। কিন্তু মেয়েটা হাজার বার বলার পরেও ঈশান বলে না যে ছেলেটাকে
কিভাবে কি ম্যানেজ করলো।ঈশান জানতো না যে মেয়েটা আরেকটা রিলেশন এ আছে।
কিছুদিন পরে আবার সেই হ্যাকার মেয়েটার বাবার খবর নিয়ে
জানতে পারে কিছু ক্রাইম এর সাথে লোকটি জড়িত। এই নিয়ে হ্যাকার একটা ডকুমেন্ট তৈরি
করে। যেটা মেয়েটাকে পাঠানো হয়। তারপরে মেয়েটা ভয়ে থাকে আর পরেরদিন পুলিশ এসে
মেয়েটার বাবা কে ধরে নিয়ে যায়। একটি মার্ডার কেস এর জন্য। যদি কেস টি ভুয়া। শুধু
এখানে তার বাবাকে আসামী বলে দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে মেয়ের ফ্যামিলি বিপদে পড়ে। কিন্তু এরই মাঝে কোন আরেকজন
হ্যাকার পুলিশের ডাটাবেজ থেকে তার বাবার নাম সরিয়ে আসল লোকের নাম দিয়ে দিলো যে
লোকটাকে পুলিশ খুঁজছে প্রায় ২ বছর ধরে। বাংলাদেশের একজন বড় সন্ত্রাসী। পুলিশ সেই
হ্যাকার কে গোয়েন্দা বিভাগে চাকরীর জন্য ডাকলো যার বেতন ৬০ হাজার টাকা প্রতি মাসে
আর এতা আরো বাড়বে পরে এবং তাকে ১ লক্ষ টা প্রাইজবন্ড ঘোষনা করলো। চাকরীও পেয়ে গেলো
সেই হ্যাকারটি।
এদিকে মেয়েটার বাবা প্রায় ১০ দিন জেলে থাকার পরে বের
হলো। মেয়েটার কলেজের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু কেস মিমাংসা করতে
অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। যার জন্য মেয়েটার টাকা দেওয়া পসিবল হয়ে উঠে না। ঈশান এটা
জানতে পারে। তারপরে ঈশান তাকে ৩০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু এবারও মেয়েটা জানে না এতো
টাকা ঈশান কিভাবে পেলো। আর ওদিক দিয়ে আরেকটা ছেলের সাথে যে রিলেশন ছিলো ২ মাসের তা
বন্ধ বা ব্রেকাপ হয়ে যায়। যেটা মেয়েটার ভুল ছিলো আর মেয়েটা বুঝতে পারে।
ঈশান এর কাছে মেয়েটা সব বলে ওই ছেলেটা মানে আরেকটা
বয়ফ্রেন্ড এর ব্যাপারে এবং ক্ষমা চায়। ঈশান তাকে ক্ষমা করে। ওদের রিলেশন চলতে
থাকে।
এক সময় সেই আগের হ্যাকারটির আর দেখা মেলে না। আইডিও
ডিএ্যাক্টিভেট হয়ে গেছে। তারপর আর সেই হ্যাকার এর হদিস পায় নি কেউ।
এদিকে মেয়ের বাসায় জানাজানি হয় ঈশান আর মেয়েটার
ব্যাপারে। তারা মোটেও রাজি হয়নি কারণ ছেলেটার ভার্সিটি শেষ করে জব করতে এখনও প্রায়
২ বছর সময় লাগবে।
কিন্তু একদিন ছেলেটা মেয়ের বাসায় আসে তার বাবা মা কে
নিয়ে। তারপরে নিচের টুইস্ট অনুযায়ী সব বলার পরে মেয়ের বাবা মেনে নিলো।
টুইস্টঃ
এগুলো শেষে আলাদা করে দেখানো হবেঃ
১) প্রথম যে হ্যাকারটি ছিলো সে ছিলো ঈশান নিজেই। সে
জানতো আরেকটা রিলেশনে মেয়েটা আছে। তার তাকে ডিপ্রেশনে রেখে তাদের রিলেশন টা
ব্রেকাপ করানোর জন্য এই পন্থা অবলম্বন করে।
২) ২য় হ্যাকারটিও ছিলো ঈশান। মেয়েটার বাবার সত্যি একটা
ক্রাইম ছিলো পুর্বে যা পরে সমাধান করা হয়নি বা কেস মিমাংসা করা হয়নি। চাকুরীর
প্রথম দিকে তিনি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন ব্যাংক থেকে এবং তিনিও এক সময়
হ্যাকার ছিলেন। হ্যাকিং এর মাধ্যমেই তিনি এই কাজ করেন কিন্তু সেটা কেউ ধরতে
পারেনি। এই টাকা জরিমানা দিতে হয় তার বাবাকে এবং কেস মিমাংসা করা হয়।
৩) ঈশান যে অফিসে চাকুরী পায় সেটা ছিলো মেয়েটার বাবারই
অফিস। মেয়েটার বাবা ইচ্ছা করেই এই কাজ করেছিলেন এবং তিনি আগে জানতে পেরেছিলেন যে
ঈশান আর তার মেয়ের রিলেশন আছে। কিন্তু ঈশান যতদিন না এগুলা তার কাছে এসে বলবে তিনি
ঈশানকে মেনে নিবেন না বলে ঠিক করেন।