Friday, July 25, 2025

৩০৯ বছরের ঘুম একদিনে! আসহাবে কাহাফের অলৌকিক ঘটনা কি বৈজ্ঞানিক টাইম ডিলেশন দিয়ে ব্যাখ্যা সম্ভব?

ভূমিকা: পবিত্র কুরআন এমন এক ঐশী গ্রন্থ, যা যুগ যুগ ধরে মানবজাতিকে পথনির্দেশনা দিয়ে আসছে। এর আয়াতগুলোতে এমন অনেক জ্ঞান নিহিত আছে, যা আধুনিক বিজ্ঞান বহু শতাব্দি পর উন্মোচন করছে। আমরা এর আগে দেখেছি, কীভাবে সূরা আল-মাআরিজ-এর একটি আয়াত (৭০:৪) আলোর গতি এবং টাইম ডিলেশনের বৈজ্ঞানিক ধারণার সাথে বিস্ময়করভাবে মিলে যায়। আজকের লেখায় আমরা কুরআনের আরও একটি বিখ্যাত ঘটনা, "আসহাবে কাহাফ" বা গুহাবাসীদের দীর্ঘ ঘুম, নিয়ে আলোচনা করব। তারা ৩০৯ বছর ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের নিজেদের কাছে মনে হয়েছিল মাত্র একদিন বা দিনের কিছু অংশ। এই অলৌকিক ঘটনা কি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের "টাইম ডিলেশন" দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব? আসুন, গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি।


আসহাবে কাহাফের ঘটনা: একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ

পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা কাহফ-এ আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণিত আছে। এটি একদল যুবককে নিয়ে যারা তৎকালীন অত্যাচারী রাজার নির্যাতন থেকে নিজেদের ঈমান রক্ষায় একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। আল্লাহ তা’আলার নির্দেশে তারা সেই গুহায় দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমিয়ে ছিলেন। যখন তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, তাদের মনে হয়েছিল তারা মাত্র একদিন বা দিনের কিছু অংশ ঘুমিয়েছেন। কিন্তু বাইরের পৃথিবীতে কেটে গিয়েছিল প্রায় ৩০৯ বছর! (সূরা কাহফ, ১৮:১৯ ও ১৮:২৫)।


টাইম ডিলেশন কী? একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব (Special Theory of Relativity) অনুযায়ী, সময় একটি স্থির বিষয় নয়; এটি আপেক্ষিক এবং বস্তুর গতির উপর নির্ভরশীল। যখন কোনো বস্তু আলোর গতির (c ≈ 299,792,458 মিটার/সেকেন্ড) খুব কাছাকাছি চলে, তখন সেই বস্তুর জন্য সময় বাইরের একজন স্থির পর্যবেক্ষকের তুলনায় অনেক ধীরে প্রবাহিত হয়। একেই টাইম ডিলেশন বা সময় প্রসারণ বলা হয়।

আমাদের পূর্বের গবেষণায়, সূরা আল-মাআরিজ (৭০:৪) এর আয়াতের উপর ভিত্তি করে আমরা দেখেছি যে, যদি একজন সত্তার জন্য ১ দিন কেটে যায় এবং বাইরের পর্যবেক্ষকের জন্য ৫০,০০০ বছর কেটে যায়, তাহলে সেই সত্তাকে প্রায় আলোর গতিতে চলতে হয়। এই হিসাবটি বিজ্ঞান ও কুরআনের এক অভূতপূর্ব মিলকে তুলে ধরে।


গাণিতিক বিশ্লেষণ: আসহাবে কাহাফের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গতি

এখন প্রশ্ন হলো, আসহাবে কাহাফের ক্ষেত্রে কি একই ধরনের টাইম ডিলেশন প্রযোজ্য? অর্থাৎ, গুহার ভেতরে ১ দিনের ঘুম বাইরের ৩০৯ বছরের সমান হতে হলে, গুহার আপেক্ষিক গতি কত হতে হবে?

আমরা টাইম ডিলেশনের মূল সূত্রটি ব্যবহার করব:

t = t0 / (1 - v^2/c^2)^0.5

এখানে:

  • t: বাইরের পর্যবেক্ষকের কাছে অতিক্রান্ত সময় (যেমন, পৃথিবীর হিসাবে ৩০৯ বছর)।

  • t0: চলমান বস্তু বা ভ্রমণকারীর কাছে অতিক্রান্ত সময় (যেমন, গুহাবাসীদের কাছে ১ দিন)।

  • v: প্রয়োজনীয় আপেক্ষিক গতি (যা আমরা বের করতে চাই)।

  • c: আলোর গতি (প্রায় 299,792,458 m/s)।

ধাপ ১: সময়কে একই এককে (সেকেন্ডে) রূপান্তর

গণনার সুবিধার জন্য, আমাদের t এবং t0 কে একই এককে, যেমন সেকেন্ডে রূপান্তর করতে হবে।

  • t0 (গুহাবাসীদের সময়): 1 দিন = 24 ঘণ্টা 1 ঘণ্টা = 3600 সেকেন্ড সুতরাং, t0 = 1 দিন * 24 ঘণ্টা/দিন * 3600 সেকেন্ড/ঘণ্টা = 86,400 সেকেন্ড

  • t (বাইরের পৃথিবীর সময়): আমরা সরলতার জন্য 1 বছর = 365 দিন ধরে নিচ্ছি (লিপ ইয়ারের সামান্য পার্থক্য এক্ষেত্রে নগণ্য)। t = 309 বছর * 365 দিন/বছর * 24 ঘণ্টা/দিন * 3600 সেকেন্ড/ঘণ্টা t = 9,742,761,600 সেকেন্ড

ধাপ ২: সূত্রের সাহায্যে 'v' এর মান বের করা

এবার আমাদের লক্ষ্য হলো 'v' কে সূত্র থেকে আলাদা করা। সূত্রটিকে ধাপে ধাপে সমাধান করি:

১. t / t0 = 1 / (1 - v^2/c^2)^0.5

২. উভয় পক্ষকে বর্গ করি: (t / t0)^2 = 1 / (1 - v^2/c^2)

৩. সমীকরণটিকে উল্টাই (ব্যস্তকরণ করি): 1 - v^2/c^2 = 1 / (t / t0)^2

৪. v^2/c^2 কে একদিকে নিয়ে আসি: v^2/c^2 = 1 - 1 / (t / t0)^2

৫. v^2 বের করি: v^2 = c^2 * (1 - 1 / (t / t0)^2)

৬. v বের করার জন্য বর্গমূল করি (বা 0.5 ঘাত ব্যবহার করি): v = c * (1 - 1 / (t / t0)^2)^0.5

ধাপ ৩: মান বসিয়ে গণনা

এখন আমরা t এবং t0 এর সেকেন্ডের মানগুলো বসাবো:

প্রথমে t / t0 অনুপাতটি বের করি: t / t0 = 9,742,761,600 সেকেন্ড / 86,400 সেকেন্ড approx 112,763.44

এবার এই মানটিকে v এর সূত্রে বসাই: v = c * (1 - 1 / (112,763.44)^2)^0.5 v = c * (1 - 1 / 12,715,699,531.36)^0.5 v = c * (1 - 0.00000000007864)^0.5 (লক্ষ্য করুন, 1 এর থেকে বিয়োগ হওয়া সংখ্যাটি খুবই ছোট) v = c * (0.99999999992136)^0.5 v = c * 0.99999999996068

সবশেষে, c এর মান (299,792,458 m/s) দিয়ে গুণ করলে: v approx 299,792,458 m/s * 0.99999999996068 v approx 299,792,457.999988 m/s


ফলাফল:

এই হিসাব থেকে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, যদি ১ দিনের ঘুমকে ৩০৯ বছরের সমান হতে হয় (টাইম ডিলেশনের মাধ্যমে), তাহলে গুহার অভ্যন্তরের পরিবেশকে আলোর গতির প্রায় 99.999999996% গতিতে বা সেই সমতুল্য আপেক্ষিকতায় চলতে হতো। এটি আলোর গতির অত্যন্ত কাছাকাছি একটি সংখ্যা।


উপসংহার: অলৌকিকতা না বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা?

আমাদের এই গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, আসহাবে কাহাফের ঘটনাটি যদি শুধুমাত্র আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের টাইম ডিলেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হয়, তাহলে গুহার ভেতরে এমন চরম ও অস্বাভাবিক গতি বা পরিবেশের প্রয়োজন যা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অসম্ভব। গুহাবাসীরা স্থির অবস্থায় ছিলেন, এবং পৃথিবীর গতি এত বেশি নয় যে এমন বিশাল টাইম ডিলেশন ঘটাতে পারে।

অতএব, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে, আসহাবে কাহাফের ঘটনাটি একটি মৌকিক বা অলৌকিক (Miraculous) ঘটনা। এটি আল্লাহর সরাসরি কুদরত (ক্ষমতা) দ্বারা ঘটেছে, যা প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর বাইরে। আল্লাহ তা'আলা সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি তাঁর ইচ্ছায় যেকোনো নিয়মকে পরিবর্তন করতে পারেন। এই ঘটনা মানুষকে আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, ঈমানের দৃঢ়তা এবং পুনরুত্থানের ক্ষমতা সম্পর্কে শিক্ষা দেয়।

কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যা বিজ্ঞানের আবিষ্কারের সাথে দারুণভাবে মিলে যায় (যেমন সূরা মাআরিজ)। আবার এমন কিছু ঘটনাও আছে যা সম্পূর্ণরূপে অলৌকিক এবং আমাদের সীমিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এই উভয় দিকই কুরআনের সর্বজনীনতা এবং আল্লাহর ক্ষমতার বিশালতাকে তুলে ধরে। এটি বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যে কোনো সংঘাত নয়, বরং উপলব্ধির এক ভিন্ন দিগন্ত উন্মোচন করে।

Friday, July 18, 2025

আলোর গতি কি সত্যিই ৩,০০,০০০ কিমি/সেকেন্ড? - কুরআন কি বলে?

💫 সময়, গতি ও কুরআনের ৫০,০০০ বছরের দিন

বিজ্ঞান ও কুরআন এর আলোকে: আলোর গতি, টাইম ডিলেশন ও একটি বিস্ময়কর মিল

আমরা প্রায় সবাই জানি যে আলোর গতি হচ্ছে প্রায় ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার/সেকেন্ড (প্রায় ৩ লাখ কিমি/সেকেন্ড)। এটাই প্রকৃতির সর্বোচ্চ গতি — যা আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতা তত্ত্বে ব্যবহার করেন।

কিন্তু পবিত্র কুরআনে আমরা এক অত্যাশ্চর্য সময়ধারণার মুখোমুখি হই।
সূরা আল-মাআরিজ (৭০:৪)-এ বলা হয়েছে:

“মালায়িকা ও রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।”

এই আয়াত কি কেবল আধ্যাত্মিক একটি রূপক? নাকি এর পেছনে রয়েছে টাইম ডিলেশন-এর বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা? আমি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই এই লেখাটি লিখছি — এবং গাণিতিকভাবে বিশ্লেষণ করছি, এই সময়-ব্যবধান আদৌ বিজ্ঞানসম্মত কি না।


🧮 ধাপে ধাপে গাণিতিক বিশ্লেষণ:

ধরি, একজন চলমান সত্ত্বার জন্য ১ দিন কেটে যায়, অথচ বাইরের পর্যবেক্ষকের কাছে কেটে গেছে ৫০,০০০ বছর।
তাহলে আমরা দেখি:

১ বছর = ৩৬৫ দিন
৫০,০০০ বছর = ৫০,০০০ × ৩৬৫ = ১৮,২৫০,০০০ দিন

অর্থাৎ, এখানে সময় গতি পেয়েছে:
১৮,২৫০,০০০ গুণ দ্রুত!

অথবা, যদি বলি:

১ দিন = ৮৬,৪০০ সেকেন্ড
৫০,০০০ বছর = ৫০,০০০ × ৩৬৫ × ২৪ × ৩৬০০ = ১.৫৭৭৮৮ × ১০¹² সেকেন্ড

এখানে ১ দিনের মধ্যে ৫০,০০০ বছরের সমান সময় অতিক্রান্ত হচ্ছে — এটি কেবল সম্ভব টাইম ডিলেশন এর মাধ্যমে।


⚛️ টাইম ডিলেশন ও আপেক্ষিকতা তত্ত্ব:

Einstein এর স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি (Special Theory of Relativity) অনুযায়ী:

t=t01v2c2t = \frac{t_0}{\sqrt{1 - \frac{v^2}{c^2}}}

এখানে,

  • t0t_0 = চলন্ত সত্ত্বার অভ্যন্তরীণ সময় = ৮৬,৪০০ সেকেন্ড

  • tt = বাইরের পর্যবেক্ষকের সময় = ১.৫৭৭৮৮ × ১০¹² সেকেন্ড

  • vv = গতি যা আমরা বের করবো

  • cc = আলোর গতি = ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ মিটার/সেকেন্ড

এই সূত্রে মান বসিয়ে vv বের করলে দেখা যায়:

v২৯৯,৭৯২,৪৫৭.৯৯৯৯৯৯ m/s



v ≈ ২৯৯,৭৯২,৪৫৭.৯৯৯৯৯৯ \ \text{m/s}


অর্থাৎ প্রায় আলোর গতির খুব খুব কাছাকাছি




❓ আমি একটি প্রশ্ন করলাম নিজেকে:

আমরা কি আলোর গতি বের করতে গিয়ে, আলোর গতি ব্যবহারই করছি না?
তাহলে তো ক্যালকুলেশনটি একটি রিসাইকেলড প্রক্রিয়া — কারণ যে মান দিয়ে হিসাব করছি, সেটাকেই যাচাই করছি!

✅ উত্তর যখন খুঁজলাম:

না — এখানে আমরা আলোর গতি বের করছি না। বরং আমরা যাচাই করছি:

যদি কুরআনের বলা "১ দিন = ৫০,০০০ বছর" টাইম ডিলেশন হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে গতি কত হওয়া দরকার?

এবং আশ্চর্যের বিষয় — সেই গতি ঠিক আলোর গতির আশেপাশেই আসে। অর্থাৎ,

Einstein-এর তত্ত্ব ও কুরআনের আয়াত — উভয়ের মাঝেই রয়েছে বাস্তবতার সেতুবন্ধন।



🔍 এরপর আরও একটি প্রশ্ন:

যদি এই টাইম ডিলেশন কেবল আলোর গতির কাছাকাছি না গেলে সম্ভব না হয় —
তাহলে কি এটাই প্রমাণ করে না যে আলোর গতি সঠিকভাবেই Einstein নির্ণয় করেছিলেন?

💡 হ্যাঁ, নিশ্চিতভাবেই।

টাইম ডিলেশন কেবল তখনই বাস্তব হয়, যখন কোনো বস্তু আলোর গতির অত্যন্ত কাছাকাছি চলে
Einstein এই মান নির্ধারণ করেছিলেন কেবল তত্ত্ব দিয়ে নয়, বরং একাধিক এক্সপেরিমেন্টাল রেজাল্ট দিয়ে প্রমাণ করেছেন:

c=২৯৯,৭৯২,৪৫৮ m/sc = ২৯৯,৭৯২,৪৫৮ \ \text{m/s}

এবং আজ এটি একটি Fundamental Constant
কুরআনের আয়াতে বলা সময়ভেদ যদি বাস্তব টাইম ডিলেশনের রূপ হয়, তবে তা Einstein-এর আলোর গতির মানকে নিখুঁতভাবে সমর্থন করে।



📌 উপসংহার:

  • কুরআনের আয়াতে বলা ১ দিনের সমান ৫০,০০০ বছরের ধারণাটি কেবল আধ্যাত্মিক নয় —
    বরং একেবারে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • টাইম ডিলেশন-এর গাণিতিক বিশ্লেষণ দেখায়, এই ঘটনা আলোর গতির কাছাকাছি গতি ছাড়া সম্ভব নয়।

  • তাই আমরা বলতে পারি:

    "Einstein-এর আপেক্ষিকতা তত্ত্ব কুরআনের গভীর আয়াতগুলোর একটি আধুনিক ব্যাখ্যার দ্বার খুলে দিয়েছে।"

✍️ আমার উপলব্ধি:

আমার কাছে এই বিষয়টি কেবল বিজ্ঞান ও ধর্মের মিল নয়, বরং মানবজ্ঞান ও আসমানি জ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সমন্বয়
যেখানে বিজ্ঞান আজ যা আবিষ্কার করছে, কুরআন সেই সত্যকে বহু আগেই আকার-ইঙ্গিতে জানিয়ে দিয়েছে।

Thursday, October 24, 2024

Speed Of Light is 3,00,000 Km/s? Really? - What Quran Says?

💫 Time, Speed, and the 50,000-Year Day in the Qur'an

Science & Qur’an in Harmony: The Speed of Light, Time Dilation, and a Mysterious Match

We all know that the speed of light is approximately 299,792,458 meters per second (or around 300,000 km/s). This is the maximum speed in nature, and it's at the heart of Einstein’s theory of relativity.

But in the Holy Qur’an, we come across a fascinating concept of time.

In Surah Al-Ma'arij (70:4), it says:

“The angels and the Spirit ascend to Him in a Day, the measure of which is fifty thousand years.”

Is this merely a spiritual metaphor?
Or is there a scientific truth hidden here — something like time dilation?

This question led me to dig deeper. What I found was truly astounding. Let's analyze this scientifically and mathematically to see if this time span is actually possible.


🧮 Step-by-Step Mathematical Analysis:

Let’s assume:
For a moving observer, only 1 day passes,
But for a stationary observer, 50,000 years pass.

That means:

  • 1 year = 365 days

  • 50,000 years = 50,000 × 365 = 18,250,000 days

So time has sped up 18.25 million times!

In seconds:

  • 1 day = 86,400 seconds

  • 50,000 years = 50,000 × 365 × 24 × 3600 = 1.57788 × 10¹² seconds

So in this case, what seems like a single day to one, equals 1.58 trillion seconds to another — this is only possible through time dilation.


⚛️ Time Dilation & Einstein’s Relativity:

According to Einstein's Special Theory of Relativity, the time dilation formula is:

t=t01v2c2t = \frac{t_0}{\sqrt{1 - \frac{v^2}{c^2}}}

Where:

  • t0=86,400t_0 = 86,400 seconds (proper time for the moving observer — 1 day)

  • t=1.57788×1012t = 1.57788 \times 10^{12} seconds (dilated time — 50,000 years)

  • c=299,792,458c = 299,792,458 m/s (speed of light)

  • vv = the speed we want to calculate

Putting the values in:

v299,792,457.999999 m/sv ≈ 299,792,457.999999 \ \text{m/s}

Yes — almost the exact speed of light!


❓ Then a question hit me:

Aren’t we calculating speed using the speed of light itself?
Isn’t this a kind of circular logic — using a value to verify itself?

✅ Here’s the answer I discovered:

We are not trying to derive the speed of light here.
Instead, we are verifying:

If the Qur’an says "a day equals 50,000 years",
then what speed would be necessary for such a time dilation to occur?

And surprisingly — that speed is very close to the speed of light.

Which means:

Einstein's equations and the Qur'anic verse both align remarkably with physical reality.


🔍 Another thought followed:

If this time dilation can only happen when something moves close to the speed of light,
Then doesn’t this prove that Einstein’s value for the speed of light is correct?

💡 My conclusion:

Absolutely yes.
Time dilation only becomes meaningful and real when an object is moving very close to light speed.

Einstein didn’t just assume this number — he derived it from deep theory and confirmed it with experimental evidence. Today, it is a fundamental physical constant:

c=299,792,458 m/sc = 299,792,458 \ \text{m/s}

If the Qur’anic statement about "a day equaling 50,000 years" reflects real time dilation,
then it directly supports Einstein’s conclusions.


📌 Final Thoughts:

The Qur’an’s description of “a day equal to 50,000 years” is not just a metaphor —
it mirrors the findings of modern physics.

Mathematical analysis of time dilation proves that such an event would only be possible near the speed of light.

So we can confidently say:

"Einstein’s Theory of Relativity opens the door to a scientific interpretation of deep Qur’anic truths."


✍️ My Personal Realization:

To me, this isn’t just a match between science and religion.
It is a beautiful harmony between human knowledge and divine revelation.

Where modern science is just now catching up — the Qur’an hinted at it over 1,400 years ago.

Sunday, April 25, 2021

যদি না যাও রৌদ্রস্নাতে, অকাল আভাস দুপুর জুড়ে বৃষ্টি ভেজা শোক।
তবে তাই হোক।
তবে তাই হোক যা ছিলো শুধুই অনুপ্রাণিত, রহে না কোনো বন্ধনের ফের কান্না,
লুটাবে সজল বিন্দু, অধরা আঁখি ভিজবে যেথায়,
সেথায় ফের দেনমোহরে পাওনা থাকবে তোমার যত ক্ষোভ।
তবে তাই হোক।
তবে তাই হোক যেথায় নীল জমে থাকে অটুট আত্মার প্রান্তরে,
যবে মরুর কান্না মিশে যায় কোন কালবৈশাখীর অন্তরে,
সেদিন আমিও আমার মত সয়ং দাড়াবো নির্জনতার বন্দরে,
আর আসুক প্লাবন, রশ্নি ভেজাক বাহুডোরের ঝোক।
তবে তাই হোক।
তবে তাই হোক মোর অস্তাচলের পথে,
যেথায় চলে যাই আমি না পাওয়ার শোকে,
শুন্যতায় ঘেরা মায়াদেবী তুমি তাকাও মোর পানে।
ডাকবে সেদিন সকল ভুলে, নিজের মনের দুয়ার খুলে, মিথ্যে দেয়ালে থাকবে ঝুলে
তোমার ভেজা চোখ।
হোক, তবে তাই হোক।

পুরানো তুমি আমি। -আর রাফিউ খান ঈশান

তখন রোজ স্নিগ্ধতা ছিলো, ছিলো চড়া শান্তির রোদ্দুর,

মেঠো পথে বৃষ্টিধোয়ায় হেটে যেতো স্বপ্ন বহুদুর।

অধিকাংশই মেতে ছিলো যতো সবুজ ঘ্রাণের সাঝবেশে,
ততো দেখা হতো দিন শুরুর সময় আকাশ মাটির কোনঘেষে।
হাত বজ্রপাতের সময় ছিলো শক্ত করে জড়ানো,
তালতলায় বাসা ছিলো খড়কুটোতে মোড়ানো।
যার একপাশে ছিলো দুয়ার আর অন্য দুপাশ শীতল খোলা,
সামনে শুন্য পেছনে বন্য উপর নিচে রঙ ভোলা।
প্রিয়তমার ওষ্ঠ ছিলো আদর ভরা সুঘ্রাণে,
আর হালকা করে মাথা ছিলো তোমার কোলের ওপরে।

সব হারিয়ে শুন্য দু হাত শুন্যতাতেই পুর্ণতা
খুঁজে নিয়েছে সেই মায়াবী চোখ যার ভেতরে জড়তা।

তুমি আজি একেলা আছো দুঃখ বড় তোমার গোলাম
আগে তখন সুখই ছিলো তোমার পাশে আমি ছিলাম।

Monday, March 25, 2019

তুমি কি চেয়েছিলে? ~ আর রাফিউ খান ঈশান

তুমি কি চেয়েছিলে? কি চেয়েছিলে তুমি? তুমি কি চেয়েছিলে শুধাও আমারে! বলে দাও ক্রান্তিকালের পথে কি একাই থাকব স্বয়ং! বলে দাও বৃথা তৃষ্ণার গান কি একাই গাইবো আনমনে! বলে দাও কতবার শুনাবো তোমারে একাকীত্বের ক্লান্তির সুর! বলে দাও আবার আমার ভালোবাসা শেষ কতটা দূর! শুধাও তোমার নৃত্যতালের কম্পন ধ্বনি কানে বাজে সুমধুর, জানাও তোমার আসার বাণী শুনে কাপুক হৃদয় আমার প্রায় ভঙ্গুর। সেদিন তোমার আকাশ জুড়ে ছিলো মেঘের কণাঘেরা, রৌদ্রজ্বল বিকেলে মেঘ গুনেছি বহুবার। তোমার কপালে আঁকা ছিলো আমার উষ্ণ ঠোটের ছোঁয়া। তোমাতে হারিয়ে যাই আমি বসন্তের কোকিলের ন্যায়, আবার জেগে উঠি বাস্তবতার ভীরে, তোমার নীড়ে পাড়ি দেই তোমাকেই ঘীরে সময়গুলোই গেলো খোয়া। চলো ফিরে আসি এই দিনে বনলতার সরু ডালে বসে গল্প করি, আর মনে করো সেই শেষ বিদায়ের তাচ্ছিল্যতায় ঘেরা উচ্চবাক্য রচনা। আমি সুরে গিয়েছি তোমার অন্ধ ভালোবাসা ঠেলে সরিয়ে দিয়েছি কাপা কাপা হাতে তোমাকে আর ঘৃণতায় ভরা তুমি, আজ মনের কোটরে যেনো নতুন দিনের সুচনা। তুমি সৃষ্টির সেরা তোমার চাওয়া পাওয়া নাইবা দিলাম হাত আমি জানি আবার আসবে আমার নতুন এক প্রভাত।

Thursday, January 24, 2019

জ্যোৎস্নায় পোড়া মাটি ~ আর রাফিউ খান ঈশান



সে ছিলো কোন আবরণে মাখা ধুসর বর্ণের মানবী।
ধুসর? হ্যা ধুসর। কালো নয় সে, বরং মায়াভরা দানবী।
চর্মের রঙ ধুসর তার। আর তার মাঝেই ভালোবাসা লুকিয়ে
অধির অপেক্ষায় আমার কারণে। আমি তো যাচ্ছি শুকিয়ে,
সেই ভালোবাসার তরে তাহার কালো মুখের মলিন লাজুক হাসি।
আমি সাদাবর্ণের। তাই বলে কি বুঝোনা ভালোবাসি?
উৎসবে মেতে থাকা সাদাকালো জীবন আজ ধুসর আমার।
ধুসরই ভালো।আমার আবার এতো চাইনা। আর তোমার?
তোমার তো শুধু দরকার একটু মাথা গোঁজার ঠাই।
পাও নি এখনও খুঁজে সেই স্থান? আরে ভাই,
আমার সমতল ছাতিখানা আছে ন বই কি?
বলতে কি দ্বিধা “একটু বুকে মাথা রাখি?”
না হয় না বললা। কার কি আসে যায়? আমি তো ক্ষুদ্র।
আমি বাবা কিন্তু ভালোবাসার তরে খুব ভদ্র।
তবে পেরিয়ে গেছে তোমার পোড়া ধুসর মুখের দিকে তাকিয়ে,
পেরিয়ে গেছে আজ আটের দশ এ আশিখানা বছর। ঝাকিয়ে
কি দেখেছিলে আমার কলিজাখানা? এখনও কিন্ত জমে আছে
ভালোবাসা তোমার তরে। আমি এখনও ঘুরে বেড়াই তোমার পাছে।
তোমার বুড়ো বয়সের দেহখানা খাটিয়ায় তুলতে কিন্তু বেশ কষ্ট
পেয়েও আঁখিজল ফেলিনি। ভালোবাসা জমে আছে স্পষ্ট।
তবে কি জানো রাতের আধারে এখন জীবন কাটে ভালোবাসায় খাটি।
আর ওদিকে তুমি ঘুমিয়ে আছো। সাথে চাঁদের জ্যোৎস্নায় পোড়া মাটি।